উপসম্পাদকীয়
সংবিধান উপেক্ষার চূড়ান্ত পরিণতি হলো একটি রাষ্ট্রের ‘কার্যকারিতা হারানো’। যেখানে নাগরিকদের জীবনের কোনো মূল্য বা নিরাপত্তা থাকে না।
কালো অতীত ও আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের বারবার এই চিরন্তন সত্যই মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার দম্ভ ও বন্দুকের নল দিয়ে সত্যকে হয়তো সাময়িকভাবে চেপে রাখা যায়; কিন্তু তাকে কখনো চিরতরে পরাজিত করা যায় না। বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক যাত্রার দ্বারপ্রান্তে উপনীত। ভবিষ্যতের দীর্ঘ ও জটিল যাত্রাপথে স্বাধীন, নির্ভীক ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমের উপস্থিতি অপরিহার্য। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রাণশক্তি শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা নিহিত রয়েছে প্রতিদিন
শিক্ষা সংস্কার, কর্মমুখিতা : বাজেটের করণীয়
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, পাঠ্যক্রমকে কর্মবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। তৃতীয়ত, ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। চতুর্থত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে
আজকের সরকারি ও বিরোধী দলও জনতাকে আশ্বাস দিয়েছিল পরিবর্তনের। অথচ ক্ষমতার মসনদে বসার পরই দেখা যাচ্ছে, যারাই ক্ষমতায় যাচ্ছেন তারাই রাষ্ট্রকে নিজ সম্পদ ভাবছেন। রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা ভাবছেন না। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে বসে আছেন। সংসদে একে অপরের চরিত্র হননের মহান (?) চেষ্টায় ব্যস্ত জনপ্রতিনিধিরা। এর আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে গত ১৭ বছরের অন্যায়, দুর্নীতি ও তার বিচারের কথা। সব দেখে আজ মনে হচ্ছে- বাংলাদেশে আজ কবির সেই বাণীই সত্য হয়ে উঠেছে, ‘প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’
মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিকদের কান্নার শেষ কোথায়
রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখার অর্থ এই নয় যে, আমাদের মা-বোনদের রক্ত ও সম্ভ্রমের ওপর দিয়ে সেই চাকা ঘুরবে। এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গৌরবের হতে পারে না। দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করা এই নারীযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মীদের এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এখনই প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ। আমরা আর কোনো কফিন মোড়ানো নারীর লাশ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করতে চাই না; আমরা চাই প্রবাসে তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা।
ইসলামী ব্যাংকসঙ্কট : দরকার জন-আস্থা ফেরানো
সংসদীয় বিতর্কেও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের মাধ্যমে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বিতর্কিত নিয়োগ থেকে মুক্ত রেখে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিরোধের অজুহাতে মূল শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসা ঠেকানো একটি ভ্রান্ত যুক্তি। ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কাঠামো ছিল দেশীয় উদ্যোক্তা, মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন তহবিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক ট্রাস্টের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব। তাদের বৈধ অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ব্যাংককে রাজনীতিকীকরণ নয়; বরং আইনের শাসন, বৈধ মালিকানা এবং তাদের নৈতিক ও আইনগত অধিকার পুনরুদ্ধার করা। ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকে, তবে সরকারকে অবশ্যই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দেশের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে