উপসম্পাদকীয়
ত্রয়োদশ সংসদের ওপর এমন একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব বর্তেছে। এই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হলে, ইতিহাসে এই সংসদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। একই সাথে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষমতার বিন্যাস, দায়-দায়িত্ব নিয়ে এখন দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। জাতিকে অগ্রসর করার অন্তরায় হিসেবে যত বিতর্ক আছে, তার অবসান করা জরুরি। এখন এজন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য যে, রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূর্ণ করার একটা সময়সীমা সংবিধানে নির্দিষ্ট করা আছে। এই রাষ্ট্র তথা বাংলাদেশ জাতি-উপজাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার এই ভূখণ্ডই প্রথম ও শেষ ঠিকানা। সবাই এর মুখে হাসি দেখতে চায়
যে বাংলাদেশ এখনো বাকি
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে কার জন্য হলো না, কাদের জন্য হলো না- সেই প্রশ্ন আসবে। কেউ যদি অভিযুক্ত হন, তাকে দায় বহন করতে হবে। ছাড় পাওয়া যাবে না। জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? কারা এর বিরোধিতা করছেন? এর উত্তর পেতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। সবাই দেখছেন, সবাই জানেন। দায়ীরা পার পেয়ে যাবেন, হিসাবটা অত সহজ নয়।
রাষ্ট্র সংস্কারেই জুলাইয়ের পূর্ণতা
জুলাইয়ের শহীদরা জীবন দেননি, যাতে নতুন একটি গোষ্ঠী একই দফতরে বসে একই সীমাহীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে। তাদের আত্মত্যাগ এমন একটি প্রজাতন্ত্র দাবি করে, যেখানে কোনো প্রধানমন্ত্রী সব প্রতিষ্ঠান দখল করতে পারবেন না, কোনো নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিককে গুম করতে পারবে না, কোনো নির্বাচন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে না এবং কোনো দল আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। বাংলাদেশের এমন সংবিধানের প্রয়োজন নেই, যা জনগণের কাছ থেকে শাসককে রক্ষা করে। আবার এমন বিপ্লবও প্রয়োজন নেই, যা জনগণকে সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। বিচক্ষণ পথ হলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাংবিধানিক ব্যবস্থার মূল চরিত্র বদলে দেয়া। জুলাই দুঃশাসন সরিয়েছে; এখন সংসদকে প্রজাতন্ত্র পূর্ণ করার দায়িত্ব নিতে হবে
শেষ হয়নি যুদ্ধ
এত ত্যাগ ও রক্তক্ষয় মানুষকে কী দিল? কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আর ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই কি মানুষ এত রক্ত দিয়েছে? সন্দেহ নেই। প্রাথমিক লক্ষ্য এগুলোই ছিল। কিন্তু দেড় দশকের নির্যাতন-নিপীড়ন এবং লুটপাটের কারণে মানুষের মনে এই প্রত্যাশা তৈরি হয়, দেশে এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার এমন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠতে না পারে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ যেন ফের ফিরে না আসতে পারে।
ভারতের কাছে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশিত
ভারত সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক দেশ এবং সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলনে বিজয় নির্ধারিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো— বাংলাদেশসহ ভারতের প্রতিবেশী সব দেশে তারা সবসময় সম্পূর্ণরূপে তাদের স্বার্থের অনুকূল এমন সরকার দেখতে চায়। আর তাই ভারতের অবৈধ প্রভাবে বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে জাতীয় নির্বাচন কলুষিত হওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। ভারত প্রকৃতই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলে নিজের ও প্রতিবেশীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমগুরুত্ব দিয়ে অবশ্যই উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তবে এ ধরনের উদারতা দেখাতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট : ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য
সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত এই ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা স্থাপত্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এটি যদি আন্তর্জাতিক আইন মেনে কেবল সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জ্বালানি সরবরাহ রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে; কিন্তু যদি এটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রক্সি যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীরভাবে পড়বে। তাই এই জোটের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনীতি, আঞ্চলিক সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর