আর্জেন্টিনায় দুই কোচের মারামারি
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তবে এবার সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম দিলেন দুই কোচ। আর্জেন্টিনার ফুটবলে এমনই অপ্রত্যাশিত এক ঘটনায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভেলেস সার্সফিল্ড ও ডিফেন্সা ই হুস্তিসিয়ার ম্যাচ। ঘটনার শুরু টর্নেও ক্লসুরার পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর। দুই দলের কোচ গিয়ের্মো বারোস স্কেলোত্তো ও হুলিও ভাকারি ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে টানেলে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচের ফলকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত এ ঘটনাই আর্জেন্টাইন ফুটবলের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।
লিনিয়ের্সের হোসে আমালফিতানি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের বেঞ্চে উত্তেজনা ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ভাকারির সাথে ভেলেসের বেঞ্চের সদস্যদের কথাকাটাকাটি হয়। ভাকারি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের বেঞ্চ থেকে তাকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলা হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠের উত্তেজনা ড্রেসিংরুমের পথে গিয়েও থামেনি।
খেলা শেষ হওয়ার পর টানেলে দুই কোচের মধ্যে ফের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দু’জনের মধ্যে ঘুষিবিনিময় হয়। দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা দ্রুত সেখানে ছুটে এসে তাদের আলাদা করার চেষ্টা করেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন বর্ণনা এসেছে। তবে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ম্যাচ চলাকালে দুই কোচের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং শেষ বাঁশির পর টানেলে গিয়ে তা শারীরিক সংঘর্ষে গড়ায়। ব্রাজিলের ইউওএল-ও জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালে ভাকারি প্রতিপক্ষের বেঞ্চের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং পরে দুই কোচের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য দুজনের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলক সংযত। তারা সংঘর্ষকে বড় করে দেখাতে চাননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও এড়িয়ে যান। ইনফোবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু’জনই অনেকটা একই সুরে ঘটনাটিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
ভাকারি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে রসিকতার সুরে প্রতিক্রিয়া জানান। অন্য দিকে স্কেলোত্তোও ঘটনাটিকে ম্যাচের উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে মাঠের বাইরে দুই অভিজ্ঞ কোচের এমন সংঘর্ষ আর্জেন্টাইন ফুটবলে বিরল দৃশ্য হওয়ায় বিষয়টি দ্রুতই ব্যাপক আলোচনায় আসে। এদিকে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক হলেও দুই দলের প্রধান কোচের এভাবে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া আর্জেন্টাইন ফুটবলে নতুন করে শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।