কাবাডির ভরসা ৩ রেইডার
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
কাবাডি স্টেডিয়ামে চলছে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী কাবাডি দলের অনুশীলন। পাশাপাশি চলছে তাদের এশিয়ান গেমসে পদক পুনরুদ্ধারের মিশন। পুরুষ দলের কোচ বাদশা মিয়া। আর নারী দলের দায়িত্বে আরদুজ্জামান ও শাহনাজ পারভীন মালেকা। আর দুই দলেরই পুরো অনুশীলন সুপারভাইজ করছেন দেশসেরা কাবাডি কোচ আব্দুল জলিল। নারী দলের তুলনায় পুরুষ দলের পদক পুনরুদ্ধারের সুযোগটা বেশি। কারণ তাদের গ্রুপে প্রায় সমশক্তির দল। অন্য দিকে নারী দলে ভারত ও ইরানের মতো শক্তিশালী দল। আর পুরুষ দলের এই পদক পুনরুদ্ধারে বড় ভরসা তিন রেইডার। এরা হলেন- অধিনায়ক মিজানুর রহমান, দীপায়ন গোলদার ও জুলফিকার আকাশ। মিজান ও দীপায়ন বেশ শক্তপোক্ত গড়নের। অন্য দিকে বিকেএসপি থেকে উঠে আসা আকাশ দীর্ঘদেহী । তিনি কিছুটা হালকা গড়নের হলেও তার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে কোচিং স্টাফদের। কোচ বাদশা মিয়া দারুণ খুশি এই তিন রেইডারের পারফরম্যান্সে। জানান, এই প্রথম বাংলাদেশ দলে এক সাথে একই মানের তিন রেইডারকে পাওয়া গেল। আগে জাতীয় দলে মানসম্পন্ন এমন তিন রেইডারকে পাওয়া যায়নি।
মিজান জাতীয় দলে আছেন লম্বা সময় ধরেই। ২০১৯ সালে জুনিয়র বিশ^কাপে ব্রোঞ্জ জয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য তিনি। এরপর ঢাকায় অনুষ্ঠিত চারটি আন্তর্জাতিক কাবাডি দলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের গর্বিত সদস্য। অবশ্য ২০২৩ সালে চীনের হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন। সেই গেমসে অবশ্য দেশকে পদক দিতে পারেননি মিজানরা। এবার দলের অন্যতম সিনিয়র খেলোয়াড় এই মিজান। তার পারফরম্যান্সের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে দলের সাফল্য। অভিজ্ঞ মিজানও জানান, আমাদের এবার জোর চেষ্টা থাকবে এশিয়ান গেমস থেকে কাবাডির পদক উদ্ধার করা।
দীপায়ন গোলদার গত কয়েক বছর ধরেই ভালো খেলছেন। ২০১৯ সালে যুব বিশ^কাপে ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন, খেলেছেন নিয়মিত। সেই তৃতীয় হওয়া দলের অন্য তিন সদস্য মিজান, রাসেল এবং পারভেজ আছেন এবারের ক্যাম্পে। দীপায়ন ২০২২ সালের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কাবাডিতে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন, খেলা হয়নি। এবার নেপালের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন দীপায়ন। সেই সিরিজে ৪-১ এ জয় পায় বাংলাদেশ। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপই এবার আছেন এশিয়ান গেমস কাবাডি দলের ক্যাম্পে। ২০২৫ সালে আন্তঃসার্ভিস কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর খেলোয়াড় তিনি। হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। এরপর সিনিয়র সার্ভিসেস কাবাডিতেও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দখলে নেন তেনি। দীপায়ন জানান, ‘২০১৯ সালের জুনিয়র বিশ^কাপে ব্রোঞ্জ জয়ই আমাদের বড় প্রেরণা। সেই দলের চার খেলোয়াড় এবারের ক্যাম্পে। এ ছাড়া সিনিয়র মনিরুল, জাহাঙ্গীর, রোমানরা এবার জাতীয় দলে। তাই এবার আমাদের আত্মবিশ^াস এশিয়ান গেমসের পদকটা পুনরুদ্ধার করে আনতে পারব। ’
খুলনার ছেলে দীপায়ন। তার বাবা ছিলেন হাডুডু খেলোয়াড়। বাবার হাত ধরেই প্রথমে হাডুডুকে আসা। এরপর কাবাডি খেলোয়াড় হয়ে গেলেন।
এবারই প্রথম সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পেলেন আকাশ। বিকেএসপির এই ছাত্র বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে কোচ বাদশা মিয়াকে। এই বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ২০০২ সালের বুসান এশিয়ান গেমসে রৌপ্য জিতেছিল বাংলাদেশ কাবাডি দল। জানান, আমাদের দলে বেশ কয়েকজন রেইডার আছেন। এর মধ্যে মিজান, দীপায়ন ও আকাশ খুব ভালো করছে। এই প্রথম জাতীয় দলে একই মানের তিনজন রেইডারকে পেলাম। এশিয়াডের পদক উদ্ধারে এটা বড় একটি শক্তি। তবে ডিফেন্সে দুর্বলতা আছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।