১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ আল আমিন
মিরাজ ২ ম্যাচ নিষিদ্ধ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এক সাথে দু’টি জাতীয় দল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। একটি গিয়েছিল সানমেরিনোতে। অপরটি মালদ্বীপের চারজাতি ফুটবলে অংশ নেয়। সেই আসরে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল কোনো ম্যাচে হারেনি। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতলেই চলে যেত ফাইনালে। তবে জেতা হয়নি। বরং মাঠে মারামারিতে লিপ্ত হন বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের খেলোয়াড়রা। এর মধ্যে বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার রেফারিকে ধাক্কা মারেন লাল কার্ড পাওয়ার পর। সাথে লাল কার্ড দেখানো হয় অপর ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলামকে।
যেহেতু ফিফা উইন্ডোতে ম্যাচ। একই সাথে টুর্নামেন্টটি ছিল ফিফা স্বীকৃত। তাই মাঠের অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনা ফিফা পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আল আমিনকে। অন্য দিকে মিরাজুল ইসলাম নিষিদ্ধ হয়েছে দুই আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অবশ্য দুই ফুটবলারের আপিল করার সুযোগ আছে। তবে ফিফা যদি এই আপিল গ্রহণ না করে এবং শাস্তিও না কমায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যাবে উঠতি স্ট্রাইকার আল আমিনের।
মালদ্বীপের বিপক্ষে জুনের এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পারেনি। খেলাটি ড্র হয়েছিল। একটি ফ্রি-কিককে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় লাল কার্ড পান আল আমিন ও মিরাজ। তখনই মেজার হারিয়ে রেফারিকে ধাক্কা মারেন আল আমিন। জাতীয় দলের হয়ে দুই ম্যাচ খেলেছেন নীলফামারী থেকে উঠে আসা এই দ্রুত গতির ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া আবাহনীর হয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচ খেলেছেন। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলের বাছাই পর্বে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪-১ গোলে জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি ছিল আল আমিনের।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বাফুফের গত কমিটির সদস্য ইলিয়াস হোসেন এক বছর সাসপেন্ড হয়েছিলেন। তা ১৯৮৯ সালের ইসলামাবাদ সাফ গেমসে রেফারিকে ঘুষি মারার জন্য। এবার সেই কাতারে যোগ হলেন আল আমিন।
মিরাজুল ইসলাম বয়সভিত্তিক সাফে দুই হ্যাটট্রিকের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে তার শট পোস্টে লেগে ফেরত না এলে বাংলাদেশ ড্র করতে পারত। তার দুই ম্যাচের সাসপেনশন কাটতে বেশি সময় নেবে না। কিন্তু ১৫ ম্যাচের সাসপেনশন অনেক লম্বা সময়। বছরে কোনো জাতীয় দলই ৬/৭টির বেশি ম্যাচ খেলে না। যদি লম্বা কোনো টুর্নামেন্ট না থাকে। তাই বলা যায় আপিল করে ঢাকা আবাহনীর খেলোয়াড় আল আমিন যদি তার শাস্তি কমাতে না পারেন, তাহলে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা হুমকির মুখেই পড়বে।
আবাহনীর আগে আল আমিন ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ দলে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেই জাতীয় দলে ডাক পান হাভিয়ার কাবরেরার সময়। অবশ্য এর আগে আরামবাগে থাকার সময় ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে শাস্তিও পান।
মাঠে মারামারি করাটা বাংলাদেশের ফুটবলাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলগুলো যেমন এই কাজ করে, তেমনি জাতীয় দলেও। আর ক্লাব ফুটবলে তা নিত্য হয়ে গেছে। এরই জের ধরেই আন্তর্জাতিক ম্যাচে লজ্জ্বা পেতে হচ্ছে। আর এখন কঠোর শাস্তি।