চান্দিনায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা, নোয়াখালীতে নবজাতক হত্যায় মা আটক
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কুমিল্লার চান্দিনায় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ নবজাতককে হত্যার অভিযোগে এক মাকে আটক করেছে পুলিশ।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান, আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন, বাবা দোকানে চা পান করতে যান। এ সময় দুষ্কৃতিকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মাকে এলোপাতারি পিটাতে থাকে। চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কি কারণে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি পূর্বশত্রুতা জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোয় ১৪ দিন বয়সী নবজাতক ছেলেকে হত্যা করেছে মা। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির কামালের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যপারে নিহতের বাবা সৌরভ হোসেন বাদি হয়ে তার স্ত্রীর নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মৃত শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সাথে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে।
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, খুলনার পাইকগাছায় ভাড়া বাসায় আরএফএলের বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাইকগাছা পেওরসদর থেকে নিপুন সানা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিপুন সানা পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা সোলাদানা গ্রামের পঞ্চানন সানার ছেলে। পুলিশ জানায়, ঝালকাঠির সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামের ধীরালাল দেউড়ীর ছেলে বিশ্বজিৎ আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে পাইকগাছায় কর্মরত ছিলেন। থাকতেন পৌরসদরের হাসপাতাল মোড় এলাকার রামপ্রসাদ মণ্ডলের ভাড়া বাসায়।
গত ২০ জুলাই গভীর রাতে ঘরের মধ্যে তাকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখে যায়। পরের দিন সকালে খবর পেয়ে থানা পুলিশ দরজা ভেঙে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ সময় নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকে তার অপর এক সহকর্মীও নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়।
ঘটনার পর নিহতের মামা বিপুল সরকার বাদি হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।