ই-সিগারেট বৈধ করার অপচেষ্টা রুখে দেয়ার দাবি ১৮ সংগঠনের
Printed Edition
ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ই-সিগারেটকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তামাকবিরোধী ১৮টি সংগঠন। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দেন যে, এই বিধ্বংসী পণ্যটি বৈধ হলে লক্ষ কোটি তরুণের স্বাস্থ্য ও জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ডা: গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। তিনি বলেন, ই-সিগারেটের কেমিক্যালের প্রভাবে প্রজননক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং জন্ম নিচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ শিশু। বর্তমানে দেশে মাত্র ০.২ শতাংশ মানুষ এটি ব্যবহার করলেও কয়েকটি বিদেশী কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে একে বৈধ করার পাঁয়তারা চলছে। অথচ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশ্বের ৪১টি দেশ ইতোমধ্যে এটি নিষিদ্ধ করেছে।
মানস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা থেকে ই-সিগারেট বাদ দেয়া এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ দেয়ার চেষ্টা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ আদালতের নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বক্তারা আরো জানান, বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও স্কুলগামী শিশুদের ব্যাগে ই-সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। এটি বৈধতা পেলে তা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে। জনস্বাস্থ্য ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারাটি অধ্যাদেশে বহাল রাখার জোরালো দাবি জানায় বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) ও ক্যান্সার সোসাইটিসহ অংশগ্রহণকারী ১৮টি সংগঠন। বিজ্ঞপ্তি।