গ্রিন মডেল টাউন সোসাইটিতে ডাকাতি
ফ্ল্যাটে ঢুকে কুপিয়ে মারধর করে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার লুট
সোমবার ভোর ৩টার দিকে মুগদায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের গ্রিন মডেল টাউনের ডি ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর আসাবিক ভবনে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি ঘটনা ঘটে।
Printed Edition
রাজধানীর মুগদায় গ্রিন মডেল টাউনের একটি আবাসিক ভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ঘটেছে। এতে ওই ভবনের তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট মালিক হুমায়ুন কবীর ও তার স্ত্রী শাহীনুর আক্তার, পাশের ফ্ল্যাটের মালিক আবদুল মান্নান ও তার ছেলে ফাহিম মুনতাসির এবং ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান। ডাকাতদের ধারোলো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হুমায়ুন করীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোর ৩টার দিকে মুগদায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের গ্রিন মডেল টাউনের ডি ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর আসাবিক ভবনে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি ঘটনা ঘটে।
ওই ভবনের বাসিন্দারা জানান, ভোরে একদল ডাকাত দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। ভবনের দ্বিতীয় তলার ফাঁকা জায়গা দিয়ে কয়েকজন ডাকাত ঢুকে পড়ে। পরে তারা নিচতলায় কলাপসিপল গেটের তালা কেটে অন্যদের ভেতরে ঢোকায় এবং তৃতীয় তলা প্রথমে হামলা করে। সেখানে মাহবুবুর রহমান এবং সাইফুল্লাহর ফ্ল্যাটে ঢুকে দুই পরিবারকে জিম্মি করে এবং বেঁধে ফেলে। স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পঞ্চম তলায় হামলা চালায়। সেখানে আবদুল মান্নান এবং হুমায়ুনের ফ্ল্যাটে ঢুকে একই কায়দায় ডাকাতি করে। এক ঘণ্টা সময়ে ওই ভবনের চারটি ফ্ল্যাটের কাঠের দরজা ভেঙে, তাদের জিম্মি করে লুটপাট করে ডাকাত সদস্যরা। এতে চাপাতি ও ছুরিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভবনের বাসিন্দাদের রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায় তারা। তাদের সবার মুখ কাপড় দিয়ে বাধা ও মাস্ক পরা ছিল, তাই কাউকে চেনা যায়নি।
এ বিষয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের গ্রিন মডেল টাউন প্লট ফ্ল্যাট ওনার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এজাজ খান বলেন, অস্ত্রসহ ২০ থেকে ২৫ জন ডাকাত সদস্য ভবনে প্রবেশ করে। ডাকাতদের সাত থেকে আটজন ভবনের ভেতরে চারটি ফ্ল্যাটে তাণ্ডব চালায় এবং অন্যরা ভবনের নিচে অবস্থান নিয়েছিল।
ভবনের নিরাপত্তা কর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। প্রায় ১ ঘণ্টায় ভবনের ফ্ল্যাটগুলো থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে হইচই করতে করতে পালিয়ে যায় ডাকাত সদস্যরা। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পাঁচজন আহত হয়েছেন, আহতের মধ্যে হুমায়ুন কবীর, মালিক আবদুল মান্নান ও মাহবুবুর রহমান তিনজন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা।
পুলিশ ও সোসাইটির স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মুগদায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের গ্রিন মডেল টাউন সোসাইটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। যে ভবনে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে, ওই ভবনের সীমান প্রাচীর নেই।
প্রধান ফটক ছাড়াও যেকোনো ব্যক্তি ওই ভবনের ভেতরে ঢুকতে পারেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে এই সোসাইটিতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। সন্ধ্যার পর ভবনের চার পাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। পুলিশ জানায়, ভবনটি নির্জন এলাকায়, আশপাশে তেমন কোনো বাড়িঘর নেই। দু-একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিলো তবে ফুটেজ পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও ভবনের পর্যাপ্ত আলোক ব্যবস্থাও ছিল না।
গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, র্যাব, পিবিআই, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোসাইটির নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি বলেন, ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা একেবারেই দুর্বল। সীমানা প্রাচীর নেই। পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, নিচে অন্ধকার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। এ কারণে ডাকাতরা সহজে ভবনের ভেতরে ঢুকতে পড়েছে।