বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

মেসিকে টপকে গেলেন অদম্য এমবাপ্পে

Printed Edition
first-4
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) পেছনে পেলে উল্লাস করছেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পে : ইন্টারনেট

আগের দিন তিন ম্যাচের দু’টিতে অঘটন। মরক্কো টাইব্রেকারে হারিয়ে বিদায় করে দেয় তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসকে। প্যারাগুয়ে বাড়ি ফেরার বিমান ধরিয়ে দেয় জার্মানিকে। অনেকের ধারণা ছিল অঘটন আর চমকের এই বিশ্বকাপে সুইডেনও হয়তো আরেকটি বিস্ময়কর ঘটনার জন্ম দেবে। আগেভাগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য করবে ফ্রান্সকে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে উপস্থিতি নিতান্তই কম ছিল। এই স্বল্প উপস্থিতির মানুষগুলো উৎসবের কোনো মুহূর্তই পায়নি। পেয়েছে শুধুই কষ্ট আর হতাশা। তাদেরকে এই মাথা নত করতে বাধ্য করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ফরাসি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে সুইডিশদের ৩-০ গোলে হারিয়েছে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। এই দুই গোলের মাধ্যমে রেকর্ড বুকে চলে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়। সে সাথে গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। তিনি মেসির সমান ছয় গোল করেছেন এই বিশ্বকাপে। তবে মেসি তার দলের অন্য কোনো গোলে অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। সেখানে এমবাপ্পের রয়েছে ২টি অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুট জয়ের ক্ষেত্রে এই অ্যাসিস্টও আসে বিবেচনায়।

এবারের বিশ্বকাপে পরস্পরকে ছোঁয়া আর অতিক্রমের লড়াই চলছে মেসি ও এমবাপ্পের মধ্যে। মেসিদের পরের ম্যাচ কেপ ভার্দের বিপক্ষে। সেই খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক গোল করলে টপকে যাবেন ফরাসি তারকাকে। সে সাথে আর্জেন্টিনা জিতলে সেরা ১৬তে ওঠার সুযোগ পাবে। যার অর্থ আরেকটি ম্যাচ। গোল সংখ্যা আরো বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ মেসির। যে সুযোগ পেয়ে গেছেন ফরাসি স্ট্রাইকারটিও।

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষটিকে টপকে যাওয়ার সাথে সাথে বিশ্বকাপ ফুটবলের রেকর্ডও করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারবার নকআউট পর্বের খেলায় একাধিক গোল করেছেন, যেখানে অন্য ফুটবলারদের এই সংখ্যা দু’বারের বেশি নয়। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাস মোট সাত ম্যাচে একাধিক গোল করেছেন তিনি। এটিও একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার মিশনে মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল কম এমবাপ্পের। মেসির গোল ১৯টি। আর এমবাপ্পের ১৮টি।

গত ৬০ বছরের ফুটবলে নতুন একটি রেকর্ড করেছেন এমবাপ্পে। আর তা হলো নিজ দলের উসমান দেম্বেলের সাথে পরস্পর মিলে ছয়টি গোল করেছেন। এর মধ্যে দেম্বেলের অ্যাসিস্ট চারটিতে, আর দেম্বেলেকে দিয়ে দু’টি গোল করাতে সহায়তা করেছেন এমবাপ্পে। দুই ফুটবলারের এই গোল করা এবং করানোর ক্ষেত্রে এই সমন্বয় গত ৬০ বছরে এই প্রথম।

নিউ ইয়র্কের মে লাইফ স্টেডিয়ামে সুইডেনের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল করেই বিশ্বকাপের নক আউট স্টেজে ১০ গোল আদায় কিলিয়ান এমবাপ্পের। প্রথম গোল দিয়েই নক আউট স্টেজে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর ৮ গোলকে টপকে যান এমবাপ্পে। পরে আরেকটি গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপে গোল করা এবং অ্যাসিস্টে এমবাপ্পের অবস্থান এখনো মেসির পেছনে। এমবাপ্পে ১৮টি গোল করেছেন এবং চার অ্যাসিস্ট। সেখানে মেসির এই সংখ্যা ২৭।

সুইডেনের বিপক্ষে এই জয়ে রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্সও। তারা বিশ্বকাপে টানা সাতবার জয়ের দেখা পেয়েছে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে। রেকর্ডবুকে চলে গেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশামও। তিনি হেড কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে নক আউট স্টেজে ৯টি ম্যাচ জিতিয়েছেন। বিশ্বের আর কোনো কোচের এই রেকর্ড নেই।

সুইডেনের বিপক্ষে সেরা ৩২-এ এই ম্যাচে ফ্রান্সের জয় ৩-০ গোলে। এবার তারা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেও প্রতিপক্ষের জালে তিন বা ততোধিকবার বল জালে পাঠিয়েছিল। সুইডেনকে এই হারের তেতো স্বাদ উপহার দিয়ে বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে তিনবার বল পাঠাল ফ্রান্স। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও আর্জেন্টিনার জালে ফ্রান্স তিনবার বল পাঠিয়েছিল। যদিও আগেরবার হারতে হয়েছিল তাদের টাইব্রেকারে।