ঢাকা জেলার অধীনে এলো পুরো পূর্বাচল নতুন শহর

চট্টগ্রামে নতুন থানা ও তিনটি নতুন উপজেলার অনুমোদন

Printed Edition
first-2
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পুরো ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পটি ঢাকা জেলার অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে উপস্থাপিত ছয়টি প্রস্তাবের মধ্যে পূর্বাচলের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং তিনটি নতুন উপজেলা গঠনসহ পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রমতে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার অধীনে বিস্তৃত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে পুরো প্রকল্প এলাকাটি ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয় নিকার।

দেশের বিভিন্ন স্থানে নব গঠিত তিনটি উপজেলা হলো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাংরা’ উপজেলা।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীনস্থ আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে নতুন ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিকার।

অন্য দিকে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগকে একত্রিত করে বগুড়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি নতুন জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিকারের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণভাবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বানিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসসিসির সভা : এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএসসিসির প্রশাসক মো: আব্দুস সালামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বাচলে ৪ থানা, ৬ তদন্ত কেন্দ্র, স্থাপনের কার্যক্রম চলছে -আইজিপি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো: আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে পূর্বাচলে চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র, দু’টি পুলিশ লাইনস, তিনটি ডিসি অফিস ও ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। গতকাল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ১০২ নং সড়কের ৪৪ নং প্লটে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি আরো বলেন, পূর্বাচলে আইনশৃঙ্খলা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ছয় হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্বাচলে পরিকল্পিত পুলিশি অবকাঠামো গড়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই নতুন শহরের টেকসই নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নতুন এই নগরী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণাধীন পুলিশ ক্যাম্পের কার্যক্রমও চালু করা হবে। রাজধানী ঢাকার পুলিশি সেবার পরিধি পূর্বাচল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে এবং সরকারের পরিকল্পিত নগরায়ণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।