২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা আরো বাড়িয়েছে সরকার। এই অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

জাতীয় সংসদে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয় চার লাখ টাকা। সংসদে গত ২৯ জুন অর্থবিল পাস হয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি সরকারের জনকল্যাণমূলক একটি সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কর অপরিহার্য হলেও করব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না হয়। বিশেষ করে সীমিত আয়ের চাকরিজীবী, পেশাজীবী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে; ঠিক তখনই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি তাদের জন্য একটু স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। সেই সাথে এটি বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে ভোগব্যয় বাড়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই অবস্থায় আগের করমুক্ত আয়সীমা অনেক করদাতার জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষ করের অতিরিক্ত বোঝা থেকে মুক্ত থাকবেন। তাদের হাতে ব্যয়যোগ্য অর্থের পরিমাণ বাড়বে। তারা পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় কিছুটা সহজে মেটাতে পারবেন; এটি সহজে অনুমেয়।

শুধু তাই নয়, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধিতে করদাতাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। এতে অনেক নতুন করদাতা স্বেচ্ছায় করব্যবস্থায় যুক্ত হতে আগ্রহী হন। কারণ, তারা মনে করেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কর সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং করভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা আপনা-আপনি বেড়ে যায়। ফলে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে গতি আসে। বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ইতিবাচক ধারায় আবর্তিত হয়। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেও এ ধরনের নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তবে সরকারকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সাথে সাথে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি যেন না হয়। এজন্য কর ফাঁকি রোধ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং করজাল সম্প্রসারণে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ আরো জোরালো করতে হবে।

আমরা মনে করি, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো সরকারের একটি জনবান্ধব এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এ ধরনের উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করতে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।