সোমালিয়ায় ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে বাংলাদেশ

হামিম উল কবির
Printed Edition
first-6
ভাস্কুলার সার্জন অধ্যাপক ডা: সাকলায়েন রাসেলের সাথে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে সোমালিয়ান ডা: আবদি কাদের মুহাম্মদ আরাব

বারডেমের ইব্রাহিক কার্ডিয়াক হাসপাতাল পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার ক্যালকাল হাসপাতালে ভাস্কুলার (ধমনী ও শিরার অস্ত্রোপচার বিষয়ক) সার্জারি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করছে। সেই লক্ষ্যে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল দু’জন সোমালিয়ান চিকিৎসককে প্রশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের একজন স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে সোমালিয়ায় ফিরে গেছেন। আরেকজন সোমালিয়ান ডাক্তার আবদি কাদের মুহামুদ আরাব এসেছেন প্রশিক্ষণ নিতে। এই দু’জনকেই হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের বিশিষ্ট ভাস্কুলার সার্র্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: সাকলায়েন রাসেল। আবদি কাদের মুহামুদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এরপর সোমালিয়ার ক্যালকাল হাসপাতাল থেকে নার্স ও টেকনিশিয়ানরা আসবে প্রশিক্ষণ নিতে। তাদের সবার প্রশিক্ষণ শেষে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল থেকে একটি টিম যাবে সেখানকার ক্যাথল্যাব চালু করতে এবং প্রথম অস্ত্রোপচারে সহায়তা করতে। এভাবে বছরে সোমালিয়ায় ভাস্কুলার সার্জারি চিকিৎসা শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে ডা: সাকলায়েন রাসেল নয়া দিগন্তকে বলেন, ক্যালকাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ভাস্কুলার সার্জারিতে ট্রেনিং করার জন্য। তাদের একজন ডা: মাহমুদ তিন মাসের ট্রেনিং করে দেশে চলে যান। কিন্তু পরে আবার আসতে চাইলে ভিসা জটিলতায় আসতে পারেননি। তিন মাস ট্রেনিং করে দেশে ফিরে গিয়ে ডা: মাহবুবের মনে হয়েছে, তাদের দেশের ডাক্তারদের ট্রেনিংয়ের জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো জায়গা। কারণ বাংলাদেশের সাথে তাদের অনেক মিল রয়েছে। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং সর্বত্র হালাল খাবার। আমাদের কালচারের সাথে তাদের কালচার মিলে যাওয়ায় সুবিধাটা বেশি হয়েছে।

অধ্যাপক সাকলায়েন রাসেল বলেন, এ ছাড়া ট্রেনিং নিতে এখানে অনেক বেশি অর্থ খরচের প্রয়োজন হয় না। যেটা সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডে গেলে করতে হয়। যদিও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আমাদের চেয়ে ভালো। তা ছাড়া প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের হাইটেক ট্রেনিং তারা গ্রহণ করতে নাও পারে, তা ছাড় কালচারের বিশাল পার্থক্য। সে কারণে ট্রেনিংয়ের জন্য বাংলাদেশকেই বেস্ট মনে করেছে তারা। পরে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর করতে সহায়তা করি।

প্রথম যে চিকিৎসক বাংলাদেশে ৩ মাসের জন্য ট্রেনিং নিতে এসেছিলেন সেই ডা: মাহমুদ ছিলেন সোমালিয়ার সিনিয়র একজন কার্ডিয়াক সার্জন। তিনি সোমালিয়ার সেকেন্ড হাইয়েস্ট বিজিয়েস্ট কার্ডিয়াক সার্জন। ডাক্তার আবদি কাদের আবার এখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে গেলেই ক্যালকাল হাসপাতাল সেই ক্যাথল্যাবটি চালু করতে পারবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ডাক্তার আরাবের ট্রেনিং শেষ হলে সোমালিয়া থেকে নার্স-টেকনিশিয়ানরা আসবে তাদের ট্রেনিং নিতে, তাদের আমাদের সম্ভব সবটুকু দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করে দিচ্ছি।

অধ্যাপক ডা: সাকলায়েন রাসেল বলেন, আমাদের গর্ব হলো তারা এখান থেকে ট্রেনিং নেবে, কিছু বৈদেশিক মুদ্রাও বাংলাদেশে আসবে যদিও খুবই মিনিমাম, তবুও এটা আমাদের জন্য গর্বের যে আমরা বিদেশীদের বিশেষায়িত একটি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে পারছি।

ডা: আবদি কাদের মুহামুদ আরাব কাজ করছেন সোমালিয়ার ক্যালকাল হাসপাতালে। এটা সোমালিয়ার অন্যতম ভালো হাসপাতাল বলে জানান তিনি। হাসপাতালটি পৃথক ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগ ২০২৭ সালে এটা চালু করতে যাচ্ছে। ডা: আবদি কাদের নয়া দিগন্তকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে পাঠিয়েছে প্রশিক্ষণে। আমি ছাড়াও আরেকজন সিনিয়র ডাক্তারকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক ভাস্কুলার সার্জারিতে প্রশিক্ষিত করেছে। এখানে প্রশিক্ষণ শেষে আমি ফিরে যাবো এবং আমার হাসপাতালে আমি জয়েন করবো একজন ভাস্কুলার সার্জন হিসেবে। এজন্য আমার হাসপাতালে ইতোমধ্যে একটি ক্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ডা: আবদি কাদের আরাব বলেন, সোমালিয়াতে একটি মাত্র সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২০টি মেডিক্যাল কলেজ আছে। বাংলাদেশের মতো কোনো মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় নেই।