কুরআনরে আলোয় মহাবশ্বি : মমতাজ উদ্দনি আহমদ
Printed Edition
মানুষ যখন রাতরে আকাশরে দকিে তাকায়, তখন সে কবেল তারার ঝলিকি দখেে না; সে দখেে এক অনন্ত রহস্যরে র্পদা। এই বস্মিয়বোধই মানবসভ্যতার প্রাচীনতম প্রশ্নগুলোর জন্ম দয়িছে-ে মহাবশ্বি কোথা থকেে এলো? কীভাবে তা চলমান? আর এর অন্তমি গন্তব্য কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানে আধুনকি জ্যোতর্বিজ্ঞিান যমেন তার দূরবীক্ষণ যন্ত্র নয়িে আকাশে তাকয়িছে,ে তমেনি প্রায় দড়ে হাজার বছর আগে মানবচন্তিাকে মহাকাশরে দকিে তাকাতে আহ্বান জানয়িছেলি পবত্রি আল কুরআন। কুরআনরে ভাষায় আকাশ কবেল একটি ভৌত বস্তিার নয়; এটি আল্লাহর সৃষ্টশিক্তরি এক উন্মুক্ত নর্দিশন- ‘নশ্চিয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথবিীর সৃষ্টতিে এবং রাত-দনিরে পরর্বিতনে জ্ঞানীদরে জন্য রয়ছেে বহু নর্দিশন।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯০) এই আহ্বান মূলত মানুষরে চন্তিা ও অনুসন্ধৎিসাকে জাগয়িে তোল-ে যাতে মানুষ মহাবশ্বিরে গভীর রহস্য অনুধাবন করতে পার।ে
কুরআনরে একটি গুরুত্বর্পূণ আয়াতে বলা হয়ছে,ে আকাশমণ্ডলী ও পৃথবিী একসময় সংযুক্ত ছলি, পরে সগেুলো পৃথক করা হয়ছে।ে (সূরা আল-আম্বয়িা : ৩০) আধুনকি মহাজাগতকি তত্ত্বে মহাবশ্বিরে সূচনাকে ব্যাখ্যা করতে যে ধারণাটি ব্যবহৃত হয়, সটেি হলো- বগি ব্যাং থওির।ি যখোনে বলা হয় মহাবশ্বি একক ঘন অবস্থা থকেে বস্তিার লাভ করছে।ে যদওি কুরআন কোনো বজ্ঞৈানকি তত্ত্ব উপস্থাপন করে না, তবু এই আয়াত মানবমস্তষ্কিকে মহাবশ্বিরে উৎপত্তি নয়িে চন্তিা করতে উদ্বুদ্ধ কর।ে
কুরআনে সম্প্রসারতি মহাবশ্বিরে ইঙ্গতি দয়ো হয়ছেে পনরে শ’ বছর আগ।ে মহাবশ্বি স্থরি নয়- এটি ক্রমাগত প্রসারতি হচ্ছ।ে এই ধারণা আধুনকি জ্যোতর্বিজ্ঞিানে পরচিতি ‘মহাবশ্বিরে সম্প্রসারণ’ নাম।ে আর্শ্চযরে বষিয়, কুরআনে বলা হয়ছে-ে ‘আমি আকাশ নর্মিাণ করছেি শক্তি দ্বারা এবং আমি অবশ্যই তা সম্প্রসারতি করছ।ি’ (সূরা আয-জারয়িাত : ৪৭) এই বাক্য মানুষরে সামনে মহাবশ্বিকে একটি গতশিীল বাস্তবতা হসিবেে উপস্থাপন কর।ে র্সূয, চন্দ্র ও নক্ষত্ররে কক্ষপথে বচিরণ করার ঘোষণাও এসছেে পবত্রি কুরআন।ে মহাবশ্বিরে আরকেটি বস্মিয় হলো এর সুশৃঙ্খল গত।ি র্সূয, চন্দ্র ও নক্ষত্ররে নর্দিষ্টি পথ রয়ছে।ে কুরআনে উল্লখে করা হয়ছে,ে র্সূয একটি নর্ধিারতি পথে চলমান এবং চন্দ্র তার নর্ধিারতি র্পযায় অতক্রিম কর;ে প্রত্যকেটি নজি নজি কক্ষপথে ভাসমান। (সূরা ইয়াসনি : ৩৮-৪০) এখানে মহাজাগতকি বস্তুর গতশিীলতার একটি চত্রি ফুটে ওঠ,ে যা আধুনকি জ্যোতর্বিজ্ঞিানরে মৌলকি ধারণার সাথে সামঞ্জস্যর্পূণ।
আকাশমণ্ডলরে স্তর ও মহাজাগতকি বন্যিাসরে কথা কুরআন ঘোষণা করছেে খুবই বজ্ঞৈানকিভাব।ে কুরআনে আকাশকে বহু স্তরবশিষ্টি হসিবেে র্বণনা করা হয়ছে-ে ‘তনিি সাত আকাশ সৃষ্টি করছেনে স্তরে স্তর।ে’ (সূরা আল-মুলক : ৩) এই ভাষা আক্ষরকি বা প্রতীকী- এ নয়িে ব্যাখ্যাকারদরে মধ্যে মতভদে রয়ছে।ে তবে এতে একটি বষিয় স্পষ্ট, মহাবশ্বিরে কাঠামো অত্যন্ত জটলি ও সুসংগঠতি। নক্ষত্ররে সৌর্ন্দয ও মহাজাগতকি শৃঙ্খলা এবং আকাশকে নক্ষত্র দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়ছে-ে এই র্বণনা কুরআনরে বহু স্থানে এসছে।ে নক্ষত্রগুলো কবেল সৌর্ন্দযরে প্রতীক নয়; প্রাচীন যুগে এগুলো পথনর্দিশেক হসিবেওে ব্যবহৃত হতো। কুরআন মানুষকে স্মরণ করয়িে দয়ে, এই বশিাল মহাবশ্বিে প্রতটিি বস্তুই একটি নর্দিষ্টি নয়িমে পরচিালতি। কয়িামতরে মহাজাগতকি রূপান্তর নয়িওে কুরআনরে ঘোষণা রয়ছে।ে কুরআনে মহাবশ্বিরে অন্তমি পরণিতরি কথাও র্বণতি হয়ছে।ে সূরা তাকভরি ও সূরা ইনফতিারে বলা হয়ছে-ে র্সূয অন্ধকার হয়ে যাব,ে নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে এবং আকাশ বদর্িীণ হব।ে এই র্বণনাগুলো মূলত কয়িামতরে ভয়াবহতার প্রতীকী চত্রি, যা মানুষকে তার অস্তত্বি ও দায়ত্বি সর্ম্পকে সচতেন কর।ে
মানবজাতকিে জ্ঞানর্চচার প্রতি কুরআন বারবার আহ্বান করছে।ে কুরআনরে মহাকাশ-বষিয়ক আয়াতগুলোর মূল উদ্দশ্যে বজ্ঞৈানকি তথ্য সরবরাহ করা নয়; বরং মানুষকে চন্তিা ও গবষেণার পথে আহ্বান করা। ‘তোমরা কি আকাশমণ্ডল ও পৃথবিীর দকিে তাকয়িে দখেো না?’- এই প্রশ্ন কুরআনরে বহু স্থানে প্রতধ্বিনতি হয়ছে।ে
এই আহ্বানই পরর্বতী যুগে মুসলমি সভ্যতার জ্ঞানর্চচাকে প্রভাবতি করছেলি। আল-বরিুন,ি ইবনে সনিা এবং ইমাম আল-গাজ্জালরি মতো মনীষী প্রকৃতি ও মহাবশ্বি নয়িে গভীর গবষেণা করছেলিনে, যার ভত্তিি ছলি কুরআনরে সইে চন্তিাপ্রসূত আহ্বান। পরশিষেে বলা যায়, মহাবশ্বিরে আকাশপটে মানুষরে দৃষ্টি যতদূরই প্রসারতি হোক, তার সামনে নতুন নতুন প্রশ্নরে জন্ম হয়। কুরআন সইে প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত বজ্ঞৈানকি উত্তর দয়ে না; বরং মানুষকে প্রশ্ন করতে শখোয়। আকাশরে দকিে তাকয়িে বস্মিয়ে অভভিূত হওয়া, সৃষ্টরি রহস্য নয়িে চন্তিা করা এবং সৃষ্টর্কিতার শক্তি উপলব্ধি করা- এই তনিটি পথইে কুরআনরে আয়াত মানুষকে আহ্বান জানায়। এই দৃষ্টতিে কুরআনরে মহাকাশবষিয়ক আয়াতগুলো একাধারে জ্ঞানর্চচার প্ররেণা, আধ্যাত্মকি চন্তিার উৎস এবং মানববুদ্ধরি অনুসন্ধৎিসাকে জাগয়িে তোলার এক চরিন্তন আহ্বান। মহাকাশরে অসীম নীলমিায় তাই কুরআনরে ভাষা আজও প্রতধ্বিনতি হয়- দখেো, চন্তিা করো এবং সৃষ্টরি মহমিায় তোমার রবকে চনিে নাও।
লখেক : সভাপত,ি আলীকদম প্রসে ক্লাব, বান্দরবান র্পাবত্য জলো।