প্রস্তুতি ম্যাচই দেবে ভবিষ্যৎ বার্তা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের গল্প খুব বেশি লেখা হয়নি। আইসিসির বিশ্ব আসরে ক্যানবেরা, ব্রিসবেন কিংবা অ্যাডিলেডে লাল-সবুজের উপস্থিতি দেখা গেলেও দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পাতায় অস্ট্রেলিয়া সফর যেন বিরল এক অধ্যায়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারো সেই অধ্যায়ে নতুন করে কলম ধরছে বাংলাদেশ। আর সেই অভিযাত্রার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে আজ, তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে।

প্রস্তুতি ম্যাচে জয়-পরাজয় অবশ্যই বড় বিষয় নয়। তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া, পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এবং সেরা একাদশকে চূড়ান্ত করার পথ খুঁজে নেয়া। পাঁচ দিনের মূল লড়াইয়ের আগে এই তিন দিন হতে পারে পুরো সফরের ভিত্তি।

১৩ আগস্ট থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তার আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচটিই নাজমুল হোসেন শান্তদের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ। বিদেশের মাটিতে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া, ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময় ক্রিজে কাটানো, বোলারদের সঠিক লাইন-লেন্থ খুঁজে পাওয়া সব কিছুর পরীক্ষাগার হয়ে উঠবে এই ম্যাচ।

অস্ট্রেলিয়ার উইকেট মানেই বাড়তি বাউন্স, গতি আর কঠিন চ্যালেঞ্জ। এখানেই সফল হতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের কাঁধে থাকবে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব, আর অধিনায়ক শান্ত চাইবেন দলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ। কারণ প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি সেশন নির্বাচকদের পাশাপাশি পুরো দলের আত্মবিশ্বাসকেও প্রভাবিত করবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। দেশের বাইরে লড়াই করার মানসিকতা আগের চেয়ে অনেক দৃঢ় হয়েছে। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন পরিবেশে ভালো ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এখন এই দলের ঝুলিতে রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন গন্তব্যে ইতিবাচক কিছু করার স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা।

১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তাই এই প্রস্তুতি ম্যাচ শুধু অনুশীলন নয়, এটি নতুন বিশ্বাস গড়ার সূচনা। আত্মবিশ্বাসী শুরুই হতে পারে ঐতিহাসিক এক সফরের প্রথম ধাপ। এখন অপেক্ষা, সেই সম্ভাবনাকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেয়ার। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে আইসিসি ইভেন্ট খেলা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা হয় না বললেই চলে। এবার যে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশ খেলছে, সেটা সিরিজের হিসেবে দেড় যুগ পর। টেস্টের হিসেব করলে অপেক্ষাটা আরও বেশি।

বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা ফুরাচ্ছে আগামী সপ্তাহে। ডারউইনে ১৩ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে নামার আগে আজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে খেলতে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামবে। প্রতিপক্ষ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) যে ১৪ জনের দল গত সপ্তাহে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কেবল তিনজনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূল ম্যাচে নামার আগে সিএ একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচকেই ‘পাখির চোখ’ করছেন ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

ডারউইনে গতকাল তৃতীয় দিনের অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভিডিও বার্তায় হাসান মাহমুদ বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের যে প্রস্তুতি ম্যাচটি আছে, সেটি অবশ্যই ম্যাচের আগে প্রস্তুতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কন্ডিশন ও পিচের সাথে মানিয়ে নিতে এটি আমাদের আসলে অনেক কাজে দেবে।’

২০০৮ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর দীর্ঘ ১৮ বছর অস্ট্রেলিয়ায় গেল বাংলাদেশ। টেস্টের হিসেবে অপেক্ষাটা আরো বেশি। ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে দু’টি টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে; যার মধ্যে কেয়ার্নস টেস্ট শেষ হয়েছিল চার দিনে। ডারউইনে সেবার চার দিনেই হেরে গিয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আগেভাগেই ডারউইনে গেছে বাংলাদেশ। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় টানা তৃতীয় দিন অনুশীলন করেছে সিমন্সের দল। গতকাল তৃতীয় দিনে মূলত থ্রো অনুশীলন করেছেন ক্রিকেটাররা। তানজিদ তামিম-মেহেদী হাসান মিরাজদের স্লিপে ক্যাচিং অনুশীলন করিয়েছেন কোচ সিমন্স। ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং, বোলিংয়েও ঝালিয়ে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা।

গত পরশু প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের ব্যবস্থা দেখে সন্তুষ্ট হাসান মাহমুদও। বিসিবির ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘খুব ভালো অনুশীলন সেশন হচ্ছে। ফিল্ডিং হলো, ব্যাটিং হলো, বোলিং হলো। এরপরে অবশ্যই আমাদের আরো সামনে অনেক কাজ আছে। অনেক সেশন আছে। আশা করি যে সবাই তাদের প্রস্তুতি নেবে। আমরা খুব ভালো একটা শুরু পাব।’

আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।