এবার কি নকআউটে খেলা হবে
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাফ শিরোপা হারানো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পরবর্তী মিশন এখন এশিয়ান গেমস। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়া এবং আইচিতে এশিয়ান গেমস হলেও ফুটবল বরাবরই শুরু হয় সবার আগে। এবারের ফুটবলও শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। এতে ‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশ দল প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিয়ানমারকে। তাদের মধ্যে শুধু মিয়ানমারের বিপক্ষেই জয়ের আশা করতে পারে পিটার জেমস বাটলার বাহিনী। এই মিয়ানমারকে হারিয়েই বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করেছিল নারী এশিয়ান কাপে খেলার। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। চীনের হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিতব্য সেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ড্র করেছিল নেপালের সাথে। এবার অবশ্য তৃতীয় স্থান পেলেই নকআউট তথা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে সাফ রানার্সআপরা। এখন পর্যন্ত এশিয়ান ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের কোনো আসরেই নকআউটে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এবার কি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন ঋতুপর্ণা চাকমা, আফঈদা ও মনিকারা।
অস্ট্রেলিয়া এবং থাইল্যান্ডের মাটিতে দফায় দফায় এশিয়ান ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল । এবার জাপানের মাঠে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আটঘাট বেঁধেই নেমেছে বাফুফে। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জাপান যাওয়ার আগে চীনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। সেখানে ক্যাম্প করবে জাতীয় দল। এরপর দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, চীনের জাতীয় দলকে পাওয়া যাবে না। তাই কোনা ক্লাব দল বা বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচ খেলার চেষ্টা চলছে। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে ১২টি দল। গ্রুপ ‘এ’ তে আছে জাপান, চাইনিজ তাইপে, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে উত্তরা কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। ‘সি’ গ্রুপের চার দল চীন, ফিলিফাইন, উজবেকিস্তান ও হংকং। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল এবং তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেই দুই দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুতরাং বাংলাদেশ দল যদি দুই কোরিয়ার বিপক্ষে সম্মানজনক রেজাল্ট করতে পারে এবং মিয়ানমারের বিপক্ষে জয় পায় তাহলে চলে যাবে নকআউটে। এতে ২০১৭ সাল থেকে অল্পের জন্য চূড়ান্ত পর্বের নকআউট মিস করা লাল-সবুজ নারী দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হবে।
এশিয়ান গেমসের পর নারী ফুটবল দল নিয়ে নভেম্বরে ফিফা উইন্ডোতে ট্রাই নেশনস কাপ করতে চায় বাফুফে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে চলছে যোগাযোগ। আবার মধ্য এশিয়ান দেশ আজারবাইজানও বাংলাদেশকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাই নেশন টুর্নামেন্ট খেলতে চায়। বাফুফের অবশ্য দেশেই খেলার ইচ্ছে। তবে শঙ্কা পুরুষ সাফ ফুটবলের পরপরই এই নারী ট্রাইনেশসন কাপ হলে দর্শক পাওয়া যাবে কি না। দর্শক পাওয়া গেলে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসবে। না হলে বিপদ।
ট্রাই নেশসন কাপ না হলে ফিফা প্রীতি ম্যাচ। এ জন্য চাইনিজ তাইপে, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ নানা দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এই তালিকায় আছে ইউরোপিয়ান দেশও।