খালি হাতেই ফিরল বাংলাদেশ

কমনওয়েলথ গেমস

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট হয়ে গেল ত্রয়োদশ কমনওয়েলথ গেমস। নতুন কয়েকটি শক্তির উত্থান, পুরনো পরাশক্তির আধিপত্য এবং অসংখ্য স্মরণীয় কীর্তির মধ্য দিয়ে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস শেষ হয়েছে। এবারের গেমসে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা শূন্য। চারটি ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিলেও কোনো পদক জিততে পারেননি। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বক্সার রাকিব হোসেন। পুরুষদের ৫৫ কেজি ব্যান্টামওয়েটের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও অস্ট্রেলিয়ার জায়ে ডিক্সনের কাছে হেরে বিদায় নেন। সাঁতারে সামিউল ইসলাম রাফি ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং গড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে কোনো ইভেন্টেই বাংলাদেশের কেউ ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেননি।

প্রতিবারই একই গল্প। সীমিত প্রস্ততি, অপ্রতুল সুযোগ সুবিধা আর অসম লড়াই। অন্য দিকে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের তালিকা যেন দিন দিন দীর্ঘই হয়। কখনো দেখা যায়, ডিসিপ্লিনের সাথে সম্পর্ক নেই, সেই ডিসিপ্লিনের কর্মকর্তা দিব্যি আন্তজাতিক গেমসে ঘুরে আসছেন। অথচ যাদের দায়িত্ব ছিল পরিকল্পনা করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা কিংবা খেলোয়াড়দের সেরা প্রস্তুতি দেয়া, তাদের ব্যর্থতার হিসাব আর চাওয়া হয় না।

৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ ১০টি ক্রীড়া ও ছয়টি প্যারা ক্রীড়ায় ২১৫টি পদক ইভেন্টে অংশ নেন। এক হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণের পর সবচেয়ে সফল দল হিসেবে আসর শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। পদক তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৭০টি স্বর্ণ, ৪৫টি রৌপ্য ও ৫৬টি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে তাদের মোট পদক ১৭১টি। সাঁতারেই অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৩৭টি স্বর্ণপদক। ছয়টি ইভেন্টে তারা পূর্ণ পোডিয়ামও দখল করেছে। লানি প্যালিস্টার একাই চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে আসরের অন্যতম সেরা তারকা হয়েছেন।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৯টি স্বর্ণ, ৪৫টি রৌপ্য ও ৩৬টি ব্রোঞ্জ। মোট ১১০টি পদক নিয়ে তারা শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। তৃতীয় স্থানে থাকা কানাডা জিতেছে ১৯টি স্বর্ণ, ২০টি রৌপ্য ও ২৩টি ব্রোঞ্জ। মোট পদক ৬২টি। আয়োজক স্কটল্যান্ড নিজেদের মাটিতে ১১টি স্বর্ণ, ১৪টি রৌপ্য ও ১৯টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৪টি পদক জিতে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছে। ২০৩০ সালের আয়োজক ভারতও গ্লাসগো থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরছে। ভারত জিতেছে ১৩টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য ও ৯টি ব্রোঞ্জ। মোট ৩৯টি পদক নিয়ে তারা চতুর্থ স্থানে। বক্সিংয়ে ১৪টি শিরোপার মধ্যে সাতটি জিতে সবচেয়ে সফল দেশ ভারত। এ ছাড়া প্যারা ক্রীড়ায়ও তিনটি স্বর্ণসহ সাতটি পদক জিতেছে ভারতীয় অ্যাথলেটরা।

নাইজেরিয়া এবারের গেমসে শুধু পদকই জেতেনি, বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে। প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ফোলাশাডে ওলুওয়াফেমিয়াও ও রিটা ফের্দিনান্দ নতুন বিশ্বরেকর্ড করেন। নারীদের এফ৪২ ডিসকাসে গুডনেস নওয়াচুকুও বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন। ছোট দেশগুলোর মধ্যেও ছিল সাফল্য। ডমিনিকার থিয়া লাফন্ড নারীদের ট্রিপল জাম্পে স্বর্ণ জিতে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস স্বর্ণপদক এনে দেন। বাহামাস, লেসোথো, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশও ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে।

ব্যক্তিগত কৃতিত্বের দিক থেকেও গ্লাসগো ছিল স্মরণীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি সাঁতারু চ্যাড লে ক্লস আরো তিনটি পদক জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সর্বাধিক ২১টি পদকের মালিক হয়েছেন। কানাডার ফেলিক্স ডলচি জিমন্যাস্টিকসে চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছেন। স্কটল্যান্ডের নিল ফ্যাচি আরো দু’টি স্বর্ণ জিতে কমনওয়েলথ গেমসে নিজের স্বর্ণপদকের সংখ্যা সাতে উন্নীত করেন।

গ্লাসগো ২০২৬ শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নিরঙ্কুশ আধিপত্য, ভারতের শক্ত অবস্থান, নতুন কয়েকটি দেশের ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতের একঝাঁক তারকার উত্থানের মধ্য দিয়ে। পদকের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শিক্ষা, কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ ছাড়া প্রতিযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।