জুলাইয়ে না’গঞ্জে হত্যাকাণ্ড

ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের শনাক্ত নিয়ে সাক্ষীকে জেরা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের শনাক্ত করার বিষয়ে সাক্ষী সম্রাট হোসেনকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরার সময় আইনজীবী আমির হোসেন জানতে চান, ওই নেতাকর্মীদের গায়ে আলাদা কোনো পোশাক ছিল কি না। জবাবে সম্রাট বলেন, আলাদা পোশাক ছিল না, তবে তাদের মাথায় হেলমেট ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, হেলমেট পরা থাকায় সাক্ষী কাউকেই চিনতে পারেননি। জবাবে সম্রাট বলেন, তিনি যাদের নাম বলেছেন, তাদের আগে থেকেই চিনতেন। কারণ তিনি অয়ন ওসমানদের বাসার পাশে ভাড়ায় থাকতেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সম্রাটের অবশিষ্ট জবানবন্দী ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জন আসামি রয়েছেন। সম্রাট মামলার তৃতীয় সাক্ষী এবং সরকারি গেজেটভুক্ত আহত জুলাই যোদ্ধা।

জবানবন্দীতে সম্রাট বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেয়ার সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। তার চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও পিলেট বিদ্ধ হয়। বর্তমানে তিনি ডান চোখে দেখতে পান না এবং বাঁ চোখেও দৃষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে। তার শরীরে এখনো ৪০টির বেশি পিলেট রয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।

জবানবন্দী শেষে পলাতক অয়ন ওসমানসহ চার আসামির পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন সাক্ষীকে জেরা করেন। তিনি সম্রাটের গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আইনজীবী দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা গেজেট সাক্ষীর তৈরি এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। জবাবে সম্রাট বলেন, তিনি গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা এবং গেজেটটি তার তৈরি নয়। তিনি ট্রাইব্যুনালে সত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এরপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের শনাক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন আমির হোসেন। জেরায় সাক্ষী তার আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তিনি আগে থেকেই কয়েকজনকে চিনতেন। আমির হোসেনের পর পলাতক অন্য আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল সম্রাটকে জেরা করেন। এর আগে গত ১২ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষে এদিন শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদসহ অন্যরা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।