বিআইপির সংবাদ সম্মেলন
ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ নগরবিদদের
Printed Edition
ঢাকার বাসযোগ্যতা সংকট কাটাতে চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা, সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবহন ও বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের ঘাটতির কারণে নগরটি ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিআইপির নেতারা। ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় একসময় প্রায় ৫৬টি খাল থাকলেও বর্তমানে ২৬টির অস্তিত্ব নেই। শহরের ৪৮টি এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৯৯ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে সবুজ এলাকা মাত্র ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যানজটে বছরে প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭৬৫ টন বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির বাইরে থাকছে।
বিআইপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও অনুমোদিত পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। খ-িত প্রকল্পের বদলে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। জলাভূমি, কৃষিজমি ও জলাধারে পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে কোনো প্রকল্প নেয়া যাবে না।
বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ড্যাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ফুটপাত, পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শুধু ঢাকার সমস্যা সমাধান করলে হবে না; কর্মসংস্থান ও সেবার সুযোগ বাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। আর পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিজ্ঞপ্তি