বাতামতল খালে জলাবদ্ধতা ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ
Printed Edition
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকার বাতামতল খাল দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই এ দুর্ভোগ আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করেন। স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের অনেক সময় পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গিয়ে সড়কে উঠে পোশাক পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা স্থানীয়দের জন্য এক নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে খালে জমে থাকা পানি চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত স্থির থাকে এবং তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে করে মশার উপদ্রব বাড়ছে, পাশাপাশি ডায়েরিয়া, জ্বরসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েল পানির নিচে ডুবে থাকায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাতামতল খালটি দীর্ঘ দিন ধরে প্লাস্টিক বর্জ্য ও গৃহস্থালির আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। পাশের বাড়িঘর থেকে নিয়মিত ময়লা ফেলার কারণে খালের পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই খালের পানি উপচে রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খালের দুই পাশে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে খালটি সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অসচেতনতাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খালের পাশে অবস্থিত পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আগে বৃষ্টির পানি সহজেই খাল দিয়ে নেমে যেত, কিন্তু বর্তমানে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরাসরি বিদ্যালয় চত্বরসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সমস্যা দীর্ঘ দিনের হলেও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল বলেন, কয়েক বছর আগে খালটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পুনরায় বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি আবারো ভরাট হয়ে গেছে। তিনি জানান, সরকারিভাবে এই খাল খননের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, আগামী মাস থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলায় দু’টি খাল খননের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১৫টি খাল খননের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু খনন নয়- দখলমুক্ত করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।