প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি
Printed Edition
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ, রাসূলুল্লাহ সা:, পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা ও বিভিন্ন আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি কার্যকর এবং টঙ্গী ময়দানে সা’দপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেয়াসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতের ৯ দফা দাবিগুলো হলো- ইসলাম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন। কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক আইন না করা। শাপলা চত্বর, মোদিবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার। দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি কার্যকর ও চাকরিতে সনদ উল্লেখ। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করা। পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ করা। আলেমদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা। মাওলানা সা’দকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং টঙ্গীতে সা’দপন্থীদের ইজতেমা বন্ধ রাখা।
সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের স্বাক্ষর করা একটি অভিনন্দনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বাবুনগর মাদরাসার দ্বীনি শিক্ষায় অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। একই সাথে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়। অভিনন্দনপত্রের শেষে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের অনন্য স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের কল্যাণ ও অগ্রযাত্রায় তার সাফল্য কামনা করা হয়।