নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণ নারী নেতৃত্বের প্রয়োজন : ডা: জুবাইদা

Printed Edition
back-3
শি লিডস টুমরো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: জুবাইদা রহমান : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা: জুবাইদা রহমান তরুণী ও কিশোরী মেয়েদের অর্জনের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। ডা: জুবাইদা বলেন, ‘তরুণী মেয়েরা যখন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ক্ষমতায়িত হয়, তখন তারা শুধু তাদের সম্প্রদায়কেই নয়, আমাদের জাতির ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করে। একটি আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাদের কণ্ঠস্বর, ধারণা এবং নেতৃত্ব অপরিহার্য।’

ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে এসডিজি ৫ ও এসডিজি ১৬ স্থানীয়করণের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৃদ্ধি’ প্রকল্পের জাতীয় প্রচারমূলক অনুষ্ঠান ‘শি লিডস টুমরো’- এ তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। জাতিসঙ্ঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশ যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের নারী নেতাদের নেতৃত্ব, সহনশীলতা এবং আকাক্সক্ষা উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

যৌথ এসডিজি তহবিলের সহায়তায় এই উদ্যোগটি এক হাজার এরও বেশি তরুণী ও কিশোরী মেয়েকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে নেতা ও পরিবর্তনকারী হিসেবে ক্ষমতায়িত করেছে।

প্রকল্পটির সাফল্য উদযাপন এবং বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি, উন্নয়নে সহযোগী, সুশীলসমাজের নেতা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং তরুণী নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছিলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়কারী (এসডিজি বিষয়ক) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী সাকি বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আজকের তরুণীদের নেতৃত্বে ক্ষমতায়ন করার অর্থ হলো আগামী দিনের জন্য আরো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

অধ্যাপক আব্দুল-আওয়াল স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফোর-স্মেরেচনিয়াক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

স্বাগত বক্তব্যে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন এবং স্থিতিস্থাপক সম্প্রদায় গড়ে তুলতে তরুণীদের নেতৃত্বে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যেখানে নারী ও মেয়েরা নেতৃত্ব দিতে, অংশগ্রহণ করতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রধান অতিথির দ্বারা ‘শি লিডস টুমরো’ কফি টেবিল বইটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন, যেখানে প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের সাহস, সহনশীলতা এবং নেতৃত্বের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

অতিথিরা ‘শি লিডস টুমরো’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন, যেখানে এই উদ্যোগের মাধ্যমে জীবন বদলে যাওয়া কিশোরী ও তরুণীদের শক্তিশালী দৃশ্যমান আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসব্যাপী ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীজুড়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায নেতৃত্ব বিকাশ, পরামর্শদান, নাগরিক শিক্ষা, নীতি সংলাপ এবং প্রচারণার মাধ্যমে সরকারি স্কুল, মাদরাসা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক হাজারেরও বেশি কিশোরী ও তরুণীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।