পানির দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু যেখানে সেখানে যখন তখন জলাবদ্ধতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পানি হওয়ার একটি নিয়ম আছে। কৃষিকাজের জন্য পানির প্রয়োজন অপরিহার্য। কিন্তু সে পানি অতিরিক্ত হলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কা বেশি। জামালপুরে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্র্রে এমনই অবস্থা হয়েছে। একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে জানা যায়, কেন্দ্রটি বছরের অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার কবলে থাকে। গত পাঁচ বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। পানিতে তলিয়ে গবেষণাকেন্দ্রের ৭৫ একর জমির চীনাবাদাম, ধান, লাউ, করলা ও পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে। একই কারণে ৫০ একর জমিতে ফসলের আবাদ করাই সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রের ভেতরে বসবাসকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নোংরা পানি মাড়িয়ে বাসভবনে যাতায়াত করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। প্রায় ১৮৩ একর ভ‚মির ওপর প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রের আওতায় গবেষণা ও বীজ বর্ধনের জন্য ১৪৯ একর ভ‚মি রয়েছে। ভ‚মিগুলো দেড় মাস ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। জলাবদ্ধতায় এ বছর প্রায় ১০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
গবেষণাকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৌরসভাকে বারবার জানিয়েও সমাধান পাওয়া যায়নি। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। এখানে বিজিবি এবং কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানকে কোনো গুরুত্বই দেয়া হয়নি। এটার পাশাপাশি পানি যেদিক দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা, সেই রেললাইনের পাশের জমি লিজ নিয়ে মাছচাষ করা হচ্ছে। পুকুর তৈরি করতে গিয়ে উঁচু করে বাঁধ দেয়া হয়েছে। ফলে শহরের পানি বের হওয়ার আর পথ নেই।
আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানিতে পুরো গবেষণাকেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনেও পানি ঢুকে পড়েছে। গবেষণাকেন্দ্রের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, তাদের নিজস্ব কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। যার ফলে বর্ষাকাল এলেই এখানে-ওখানে পানি জমেছে। বিগত সময়ে অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে নিয়ে বসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণ। জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। এ দেশ এতটা শিল্পোন্নত নয় যে, শিল্প হবে গবেষণার প্রধান বিষয়; আবার অতটা বাণিজ্য উন্নত নয় যে, বাণিজ্য প্রধান বিষয় হবে। স্বাভাবিকভাবেই কৃষির ওপর জোর দেয়া জরুরি। জলাবদ্ধতা গবেষণার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। গবেষণার ফলাফল নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি গবেষণাকেন্দ্র দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।