পাটগ্রামে প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত বিল, বাড়ছে ক্ষোভ

Printed Edition

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) স্থাপিত প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ দেখানো, দ্রুত রিচার্জ শেষ হয়ে যাওয়া এবং হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে অনেক গ্রাহক প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহার ও নেসকোর স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ দাবি করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে আগের মিটার খুলে অনেক গ্রাহকের বাড়িতে এক প্রকার জোর করে প্রিপেইড মিটার বসানো হয়। এরপর থেকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবি, রিচার্জ করার পর অস্বাভাবিক দ্রুত টাকা শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটগ্রাম পৌর এলাকার এক চাকরিজীবী নারী বলেন, আগে তার মাসে বিদ্যুৎ বিল থাকতো ৮০০-১,০০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর বিগত ১৩ দিনেই তার ৫০০ টাকার রিচার্জ শেষ হয়ে গেছে।

গ্রাহক মোহাম্মদ নুর নবীর অভিযোগ, আগে মাসে ৪০০-৪৫০ টাকা বিল এলেও এখন এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে ২৪-২৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। আরেক গ্রাহক মাহরুফ হাসান তিতাস বলেন, মিটারে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও একাধিকবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মোস্তাফিজুর, আবরার আলভি হৃদয়, মোজাম্মেল হকসহ আরো কয়েকজন গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করেন।

স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, পাটগ্রামে প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। কিছু গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, যারা প্রিপেইড মিটার নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন, তাদের নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলও দেয়া হচ্ছে না।

এ দিকে গ্রাহকদের একাংশ নেসকোর পাটগ্রাম বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্পন্দন বসাকের বিরুদ্ধে অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, তিনি অধিকাংশ সময় ফোন ধরেন না এবং অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাও নেন না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী স্পন্দন বসাক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যাদের বিদ্যুৎ বিল বা প্রিপেইড মিটার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, তারা অফিসে এলে ডাটাবেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়া হবে। তার দাবি, কোনো গ্রাহকের পুরনো বকেয়া বিল প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ থেকে কেটে নেয়া হয় না।