বাংলাদেশের সুস্বাদু আমের সুখ্যাতি বিশ্বব্যাপী। দেশের অনেক এলাকার মানুষ ধানের বদলে আম উৎপাদন করে নিজেদের জীবনে সমৃদ্ধি বয়ে আনার চেষ্টা করছেন। অনেকে সফল হচ্ছেন; কিন্তু এই ফলের অর্থনৈতিক দিকটি জাতীয় পর্যায়ে কমই গুরুত্ব পেয়েছে; বরং আমকে অন্য আর কয়েকটি ফলের মতো ভাবা হয়। এখন দেশ-বিদেশে আম রফতানি হচ্ছে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। তাই একে আর গুরুত্ব না দেয়ার সুযোগ নেই।
নওগাঁ জেলার যেসব জমিতে আগে ধান চাষ করা হতো, সেখানে এখন আম উৎপাদন করা হয়। ধানের বদলে আমই এখন নওগাঁর প্রধান ফসলে রূপ নিয়েছে; কিন্তু উৎপাদিত এসব আমের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে সেখানকার কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নয়া দিগন্তের এক সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু সাপাহার উপজেলায়ই প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে অনেক কৃষক প্রতি বিঘায় সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করছেন। আমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনীতি, বদলে গেছে সাপাহার ও আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা।
কিন্তু এই সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষণ সঙ্কট। শুধু সাপাহারে মৌসুমে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়। অথচ আধুনিক হিমাগার বা সংরক্ষণাগার না থাকায় উৎপাদিত আমের প্রায় ২০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।
সাপাহারের এক আমচাষি জানান, আম্রপালি আম পাকার পর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রি করতে হয়। গাছে ধরে রাখার সুযোগ নেই। এ সময় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে বড় ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে দেন। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরকে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়।
আমচাষিদের এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তাদের ব্যাপারে সরকারের কৃষি বিভাগকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। নওগাঁ অঞ্চলে আম সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এটি সরকারকেই করতে হবে।
৪০ কেজিতে আমের মণ হওয়ার কথা থাকলেও নওগাঁয় আম বেচাকেনা হয় ৫২ থেকে ৫৩ কেজিতে মণ ধরে। এটি রীতিমতো অন্যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
আমের মৌসুম এলেই সাপাহার ও পোরশা পৌর এলাকার সড়কগুলোতে যানজট লেগেই থাকে। এই সমস্যার সমাধানে সেখানে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা দরকার।
বাংলাদেশের আমের বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে আম রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধতা দূর করতে হবে।