পদ্মা রেললাইনে যন্ত্রাংশ চুরি বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
কম্পিউটার-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে
Printed Edition
আহসান হাবীব শিবচর (মাদারীপুর)
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেগা প্রকল্প ঢাকা-ভাঙ্গা-যশোর রেলপথ এখন নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাদারীপুরের শিবচর অংশে রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বারবার চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে কম্পিউটার-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে, যা বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
শিবচর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এই স্টেশনের উত্তর প্রান্তের ১৩টি ট্র্যাক পটের মধ্যে ৯টিই চুরি হয়ে গেছে। গত ১৯ জুন রাতে পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের এবং ৯ জুন শিবচর প্রান্তের সব ট্র্যাক পট খুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। বারবার চুরির ফলে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এখন ট্রেনগুলোকে হোম সিগন্যালের কাছে এনে ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার পদ্ধতিতে চালানো হচ্ছে। এতে ট্রেন চলাচলে বিলম্বের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
চুরি হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে ট্র্যাক পট, ট্রান্সফরমার, সিগন্যাল কেবল, গার্ড রেলের স্ক্রু স্পাইক, ফিশ বোল্ট ও ইলাস্টিক রেল ক্লিপসহ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্টেশন কর্মীরা জানান, বর্তমানে স্টেশনের আশপাশে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছে। তাদের সতর্ক করতে গেলে উল্টো অসদাচরণ করা হয়। যাত্রীদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নিয়ে লাভ নেই, জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে রেলপথজুড়ে স্থায়ী নিরাপত্তা ও নিয়মিত পুলিশ টহল নিশ্চিত করতে হবে।
পদ্মা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো: খাইরুল ইসলাম জানান, যন্ত্রাংশ চুরির কারণে প্রতিনিয়ত ট্রেন পরিচালনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো: শাহজালাল জানান, চুরির ঘটনায় আগেও মামলা ও আসামি গ্রেফতার হয়েছে। দূরত্ব বেশি হওয়ায় টহলে কিছুটা সমস্যা হলেও চুরি প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা আরো জোরদার করা হবে।