৫৬ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ
Printed Edition
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ এখনো নিজস্ব ভবন পায়নি। ফলে ভাঙাচোরা একটি টিনশেড ঘরেই চলছে পরিষদের সব কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত পাশাপোল ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার। ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি, একটি দাখিল মাদরাসা ও একটি কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া ৪৩টি মসজিদ, ছয়টি মন্দির, একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কয়েকটি গ্রামীণ হাট রয়েছে।
গত ৪ জুলাই শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, পাশাপোল গ্রামের একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিভিন্ন কাজে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা ভবনের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, একসময় অবহেলিত এই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইউনিয়নটি অনেক এগিয়েছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় নাগরিক সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পেঁৗঁছায়নি।
বর্তমান চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ১৯৭২ সালে পাশাপোল ইউনিয়ন গঠনের পর প্রথম চেয়ারম্যান প্রয়াত খাইরুজ্জামান নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরবর্তী চেয়ারম্যানরাও কখনো নিজ বাড়ি, কখনো বাজারের ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস পরিচালনা করেছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ, আসবাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাগরিক সেবা প্রদান; এসব ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, প্রভাষক মামুদুর রহমান ও খতিব মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে, সেই ৬৫ শতক জমি ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নামে নিবন্ধিত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এ জায়গায় আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষ সহজেই সেবা নিতে পারবেন।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, আদালতে মামলা চলমান থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে জটিলতা রয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসন হলে ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।