আজ পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জন্মদিন। একই দিন তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাই দিনটি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রয়েছে বিশেষ আবেগ। প্রতি বছর মুসলমানরা দিনটি পালন করে থাকেন শেষনবী সা:-এর আদর্শ স্মরণ করে। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান নিয়ে এসেছিলেন। সেটি তিনি বাস্তবায়ন করেও মানুষের মধ্যে অনুপম নিদর্শন হয়েছিলেন। নবীজীবনের শিক্ষা হচ্ছেÑ নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে মানবতার কল্যাণে আজীবন নিয়োজিত হওয়া এবং রাব্বুল আলামিন আল্লাহর নির্দেশিত সত্য ও ন্যায়ের পথকে নিজের জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা। তবে দুর্ভাগ্য হলো- বর্তমান মুসলিম উম্মাহর সাথে এর মিল কম পাওয়া যায়। আজকের এ দিনে সবাইকে ফের সে শিক্ষার দিকে ফিরে আসার শপথ নিতে হবে।

রাজা-বাদশাহ-আমির-ফকির কেউ ছোট বা বড় নন। কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নন। সব মানুষ সমান। আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কোনো অবস্থাতে মাথা নোয়ানো যাবে না। মুহাম্মদ সা: প্রচার করেছেন, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব মেনে আল্লাহর নির্দেশিত পথে সারা জীবন নিষ্ঠার সাথে চলার মধ্যে। মানুষ ইহকালে যে কাজ করবে, পরকালে আল্লাহর কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং এ জন্য প্রতিফল পাবে। যারা আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল, আখিরাত এবং শেষবিচারের দিনের প্রতি বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও কল্যাণের পথ অনুসরণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার। তারা পাবেন শাশ্বত শান্তিময় স্থান বেহেশত বা জান্নাত। আর যারা সত্যের পথে চলবে না এবং প্রবৃত্তির দাসত্ব করবে, তাদের জন্য রয়েছে চরম শাস্তির চিরন্তন স্থান জাহান্নাম।

মুহাম্মদ সা:-এর প্রতিটি কাজের লক্ষ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। এমন কাজ করতে গেলে সাধারণভাবে আশপাশের লোকেরা উপকৃত হয়। আমরা দেখেছি তাঁর আগমনের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পুরো আরব উপদ্বীপের মানুষ আল্লাহতে মাথা নত করেছিলেন। ইসলামের মহত্ত্ব শুধু আরব ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তৎকালীন দুই সভ্যতা পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যও ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। তিনি মানুষের পরম আস্থাভাজন ছিলেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অসি হাতে যুদ্ধ করেছেন তিনি; কিন্তু অন্যায়ভাবে সামান্য আঘাতও দেননি। যুদ্ধবন্দীদের দিয়েছেন মানবাধিকার। তিনি মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ আদর্শ। অঙ্গীকার রক্ষায় ছিলেন শতভাগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আদর্শ ও ন্যায়ের পথে মুসলিমরা যখন ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ, তখন সাফল্য তাদের হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিয়েছিল; কিন্তু মূল আদর্শ কুরআন বাস্তবায়নে তারা যখন গাফেল হয়ে পড়েন, তখন থেকে মুসলমানদের পতনের সূচনা। আজ তারা আদর্শচ্যুত হয়ে পতনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। আমরা যদি আল্লাহর শেষনবী মুহাম্মদ সা:-এর প্রতি অবতীর্ণ চিরন্তন আদর্শ কুরআনের দিকে ফিরে যেতে না পারি, তবে এ অধঃপতন থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।

মানবজাতি সে আদর্শ অনুসরণ করলে আজকের দুনিয়ার অন্যায়, অশান্তি, অনাচার, অবিচার, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের অবসান হওয়ার পথ তৈরি হবে।