গত মঙ্গলবার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একেবারে শিশু শ্রেণী পর্যায় থেকে ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়। প্রাথমিকে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনায় দেখা গেছে, সেখানে ধর্মীয় শিক্ষকের কোনো অপশন না রেখে; বরং তার পরিবর্তে সেখানে সঙ্গীত (নৃত্য-গান-বাজনা) এবং শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী শিক্ষা সবসময় উপেক্ষিত ও অবহেলিতই থেকে গেছে। যে কারণে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্ম বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক থাকলেও তা পড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে কোথাও কোথাও ইসলাম ধর্মের শিক্ষা দেন অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষক। কী বিচিত্র মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা! ইসলাম শিক্ষার কী শোচনীয় অবস্থা! শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গান-বাজনা ও শরীরচর্চার শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। দেশের শিশু-কিশোরদের কচিপ্রাণে ইসলামের শিক্ষা না দিয়ে একটি ধর্মহীন জাতি গড়ার দিকে ধাবিত হচ্ছিল শেখ হাসিনা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উপেক্ষিতই থাকছে যা শুধু দুঃখজনকই নয়, উদ্বেগেরও। ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে শেখ হাসিনা গান-বাজনা ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগের যে ব্যবস্থা করেছিলেন তা বাস্তবায়নে কেন শিক্ষা প্রশাসন এত ব্যস্ত, বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়।

শিক্ষক নেতারা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ‘সঙ্গীত বা নৃত্য (গান-বাজনা) আমাদের মতো মুসলিম দেশে আবশ্যিক কোনো বিষয় নয়। এ ছাড়া কোনো পরিবারের যদি একান্তই গান বা নৃত্যের প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলে তারা ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষক রেখে টিউশনি বা প্রাইভেটভাবেও বিষয়টি শিশুদের শেখাতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়টি সব ধর্মের জন্যই অতি জরুরি একটি বিষয়। সে কারণেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টি করে হলেও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।’

মুঘল আমল থেকে ধর্মীয় শিক্ষাই ছিল প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই শিক্ষাব্যবস্থার যবনিকাপাত ঘটেছে। ইংরেজদের হাত ধরে এসেছে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু ইংরেজদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থা এই অঞ্চলের মুসলমানদের জীবন-যাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তারা তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে তাদের বিশ্বাসের আলোকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার। আর সেই ভিত রচনা করতে হবে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে শিশু-কিশোরদের ধর্ম শিক্ষার পথ সুগম করা। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে শিশুরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তাদের মধ্য থেকে কিশোর গ্যাং হওয়ার পথও রুদ্ধ হবে।