একটি দেশের শতকরা ২৫ ভাগ বন থাকতে হয়। সেই জায়গায় আমাদের দেশে আছে মাত্র ৫ শতাংশ। সরকার ৮-১০ শতাংশ বনভূমি দেখালেও বাস্তবে তা নেই। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন জায়গার বন প্রতিনিয়ত উজার হচ্ছে। তেমনি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চরগঙ্গামতি সংরক্ষিত বন। এ বনে একটি চক্র প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিচ্ছে। প্রকাশ্যে গাছ কেটে নেয়ার অর্থ হলো- এসব অপরাধী প্রভাবশালী। কিন্তু যেকোনো অপরাধীর প্রভাব রাষ্ট্রের কাছে তুচ্ছ। তাই বন বিভাগের কর্মকর্তাদের, বন উজার করা চোরদের কঠোর হস্তে দমন করা কোনো কষ্টসাধ্য কাজ নয়।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র গাছ চুরির সাথে জড়িত। তারা গত ২০-২৫ দিনে শতাধিক গাছ কেটেছে। অভিযোগ রয়েছে, চরগঙ্গামতি সংরক্ষিত বনের গাছ চুরির বিষয়ে বন বিভাগ নির্বিকার। বন রক্ষার দায়িত্ব যেখানে বন বিভাগের সেখানে এমন নীরবতা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গামতি উপকূল উজাড় হলে কুয়াকাটা আরো সঙ্কটাপন্ন হবে। কারণ গাছের শিকড় শুধু মাটি ধরে রাখে না, জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রতিরক্ষাও দেয়। সেই সাথে কারো অজানা নয় যে, বনায়ন না করে নির্বিচারে গাছ কাটলে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হবে। ভাঙন ত্বরান্বিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি আরো বাড়বে।

উপকূল পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক বলেন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন উপকূলের রক্ষাকবচ। তাই এ বন উজার হলে শুধু গাছ নয়, উপকূলের প্রাকৃতিক ঢালও বিনষ্ট হবে।

আমাদের সবার জানা, আজ সারা দেশে বন-বনানী ক্রমশ কমছে। এটি অনেকাংশে সম্ভব হচ্ছে বন কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে। কখনো তাদের অনেকে নিজেরা গাছ চুরির অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছেন। বনের গাছ চোরদের দমনের পাশাপাশি বনের রক্ষক থেকে ভক্ষক হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশের ক্ষতি করে বনের গাছ কাটা থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের বিরত রাখতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ দরকার। প্রথমত, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যেসব অঞ্চলে বন রয়েছে; সেগুলো রক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীদের সমন্বয়ে বন সংরক্ষণ কমিটি করা যেতে পারে, যারা বনের গাছ চুরি ঠেকাতে ভ‚মিকা রাখবেন। এ ছাড়া গাছ কেটে জ্বালানির প্রয়োজন মেটানোর বিকল্প ব্যবহারেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এসব কাজে জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিনিয়ত গাছ কাটায় আমরা পরিবেশগত নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এমন সঙ্কট মোকাবেলায় সমাধান হলো- বিদ্যমান বন সংরক্ষণ করা, গাছ লাগানো ও বনভূমি বাড়ানো। তবে সব কিছুর আগে আমরা আশা করব, প্রশাসন কুয়াটার চরগঙ্গামতি সংরক্ষিত বনের গাছ চুরি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।