বরগুনার পাথরাঘাটা উপজেলায় নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন ইটভাটার মালিকরা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকিতে বিষখালী নদীর তীর থেকে ইটভাটার মালিকরা বেপরোয়াভাবে মাটি কাটায় নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলকার বাসিন্দারা।

নদী দখল, বালু উত্তোলন ও মাটি লুট করা প্রভাবশালীদের জন্য খুব সহজ। কারণ এসব অপকর্মের সাথে যারা জাড়িত তাদের অধিকাংশ ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত। এদের ক্ষমতার দাপটে অনেকে মুখ খুলতে চান না। প্রতিবাদ দূরের কথা। প্রশাসনের লোকজন নিয়ম রক্ষার অভিযান পরিচালনা করেন বটে; কিন্তু তাতে এগুলো বন্ধ হয় না। বরং কিছু সময় পর আবার চলতে থাকে।

এ নিয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ যদি নদীর চর থেকে মাটি কাটায় জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এক মাস ধরে পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি ও কাকচিড়াতে ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আর এমবির দু’টি ইটভাটা ও আল মামুন এন্টারপ্রাইজের দু’টি ইটভাটার ভেকু মেশিন দিয়ে নদীর তীরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি লুটে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে এগুলো বন্ধ হতো; কিন্তু তা হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বরগুনার ৬৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ভাটার অনুমোদন নেই। আবার বেশির ভাগ ইটভাটা নদী তীরবর্তী হওয়ায় ভাটামালিকরা চর থেকে মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করছেন।

একে তো অবৈধ ইটভাটা তাতে আবার নদীর তীরের মাটি কাটা। দুটোই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নদীর মাটি লুটকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ত্রিপক্ষীয় সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের নদীর মাটি লুট বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেছেন, নদীর তীর থেকে মাটি কাটতে থাকলে শিগগির ভাঙন শুরু হবে। আমাদের মতো গরিব মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলবেন। তার এ উপলব্ধি যথাযথ।

নদীতীরের মাটি কাটতে দিয়ে যেমন বাঁধ বিপন্ন হতে দেয়া যায় না, তেমনি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। ইটভাটা নদীর তীরে থাকাটা দোষের কিছু নয়; কিন্তু তা আইনসঙ্গত হতে হবে। ইটভাটা তৈরি দখল এবং দূষণের ওপর নির্ভর করতে পারে না। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। স্বাভাবিক পরিবেশের অন্যথা হলে বিপত্তি।