ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ অগ্রাহ্য

ইউক্রেনযুদ্ধ তীব্র করছেন পুতিন

Printed Edition
Inter-1
মস্কোর উপকণ্ঠ নাখাবিনোর একটি লুকঅয়েল গ্যাস স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সারি। সম্প্রীতি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারন করেছে : ইন্টারনেট

রয়টার্স

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আপাতত কোনো শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং আগামী কয়েক মাসে এই যুদ্ধ আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, পুতিন এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রধান ল্েযই অবিচল রয়েছেন এবং সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে তিনি আরো অনড় হয়ে উঠেছেন। এমনকি সম্প্রতি নিজের উপদেষ্টাদের প থেকে দেয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে সমঝোতার প্রস্তাবও পুতিন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন এবং আগামী দিনগুলোতে সঙ্ঘাত বৃদ্ধির উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্য দিকে, গত সপ্তাহে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে পৃথক ফোনালাপ এবং পরবর্তীতে ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কির সাথে ব্যক্তিগত বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের সমাধান ‘মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি’ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পুতিন কোনো শান্তির নয়, বরং ইউক্রেনের ভেতরে বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশকে ল্য করে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজন হলে নিজস্ব সামর্থ্যে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালিয়ে যাবে। পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দনবাস পুরোপুরি দখল করতে রাশিয়াকে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ দিতে হতে পারে এবং কিছু রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ন্যাটোর বাল্টিক অঞ্চলের ঘাঁটিসহ ইউরোপের বিভিন্ন ল্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আলোচনা করায় তা ন্যাটোর সাথে সরাসরি সঙ্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।

জ্বালানি খাতে হামলা করে রাশিয়াকে টলাতে পারবে না: পুতিন

এদিকে আরটি জানায়, সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার, গ্যাস কম্প্রেশন স্টেশনসহ বিভিন্ন বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসব হামলা রাশিয়াকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। ক্রেমলিনের প থেকে ইউক্রেনের এই সাম্প্রতিক পদপেগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

গত বুধবার মস্কোর ক্রেমলিন থেকে মন্ত্রিসভার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হয়ে পুতিন বলেন, ‘এটা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, শত্রুপ জ্বালানি খাতে লাগাতার হামলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকেই ধ্বংস করতে চাইছে। তাদের ধারণা যে এসব হামলায় রাশিয়া অস্থিতিশীল হয়ে ওঠবে।’ শত্রুপরে এই উদ্দেশ্যকে অবাস্তব আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে সহনশীল এবং এই হামলায় সাধারণ রুশ জনগণের মধ্যে কোনো ভীতির সঞ্চার হবে না; ফলে ইউক্রেনের ল্য অর্জন অসম্ভব। এ দিকে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে কৃষ্ণসাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় চলাচলকারী সাধারণ যানবাহনেও ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব যাতায়াত বিপর্যয় ও হামলার কারণে শুধু গত সপ্তাহেই ৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২৭০ জন আহত হয়েছেন বলে ক্রেমলিন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।