সংসদে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা

Printed Edition

- নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর

- মধ্যপ্রাচ্যে ১২ ও রাশিয়ায় ৪ বাংলাদেশীর মৃত্যু

সংসদ প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটি দ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ল্য বাস্তবায়নে দ জনশক্তি গড়ে তোলা, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো: জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০৪টি কারিগরি প্রশিণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিণ প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মমুখী ট্রেড ও কোর্সে দতা উন্নয়ন প্রশিণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৈদেশিক শ্রমবাজার সংরণ, সম্প্রসারণ ও সুসংহত করার ল্েয দ জনশক্তি তৈরির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা, অভিবাসনব্যয় কমানো এবং দালালচক্রের প্রতারণা রোধে সরকার নানা পদপে নিয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, প্রশিণ, সনদায়ন, শ্রম চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) ও ভিসা যাচাই এবং বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুসহ পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্ল্যাটফর্ম (ওইইএমপি) চালু করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং জবাবদিহি আরো বাড়বে।

তিনি আরো জানান, দালাল ও সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স, সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ) বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নতুন শ্রমবাজারে জোর

সংসদ সদস্য মো: জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিদ্যমান শ্রমবাজারে কিছুটা প্রভাব পড়লেও সরকার বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, থাইল্যান্ডের সাথে কর্মী নিয়োগ চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর কূটনৈতিক উদ্যোগ, জাপান ও দণি কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা যাচাই করে জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ সম্ভাবনাময় ইউরোপীয় শ্রমবাজারে দকর্মী পাঠানো সহজ করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে ১২ বাংলাদেশীর মৃত্যু

সংসদে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজনকে সংশ্লিষ্ট দেশেই দাফন করা হয়েছে এবং ৯ জনের লাশ দেশে আনা হয়েছে। তাদের পরিবারের জন্য বিমানবন্দর থেকে দাফনব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দু’জন, ইরাকে একজন এবং বাহরাইনে একজন ছিলেন।

এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও আটজন শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দেশ থেকেও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ায় ৪ জনের মৃত্যু

লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: হাসান রাজীব প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশী কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে জোরপূর্বক সামরিক প্রশিণ দিয়ে যুদ্ধেেত্র পাঠানোর প্রস্তুতির তথ্য পায় সরকার। তিনি বলেন, এর পর গত ১৫ জুন মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়। মন্ত্রী জানান, ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কোনো বাংলাদেশী যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।