শেষ আষাঢ়ে মেঘলা আকাশ সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি
জ¦র হাঁচি সর্দি কাশিতে ভুগছে মানুষ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আষাঢ়ের শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকছে, সাথে চলছে থেমে থেমে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। মাঝে মধ্যে কিছুটা বিরতি পেলেও আবার মুহূর্তেই আকাশ কালো মেঘে ঝরছে বৃষ্টি, সাথে শীতল হাওয়া। এমন বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ঘটেছে ছন্দপতন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনেকেই ভুগছে নানা রোগে।
তবে আবাহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হবে শিগগিরই, এখনকার চেয়ে কমে যাবে। তবে বর্ষাকালের বৈশিষ্ট্যের কারণে মেঘলা আকাশ, মাঝে মধ্যে থেমে থেমে বৃষ্টি থেকেই যাবে।
মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা ও স্থলভাগে লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে দেশের প্রায় সর্বত্রই আবহাওয়ার এই অবস্থা। কালো করে মেঘ ঘনিয়ে বৃষ্টি এবং মাঝে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতে ভয় ধরানোর অবস্থা হয়। তবে এটিই বাংলাদেশের বর্ষাকালের চিরচেনা রূপ। এমনটা হয়ে থাকে প্রতি বছরের বর্ষায়। চলতি স্থল লঘুচাপটি অবশ্য বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। একটি মৌসুমী নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে বর্তমানের স্থল লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বৃষ্টির সাথে বেড়েছে মৌসুমী নানা রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে জ¦র, হাঁচি, সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা। ভাইরাল এ রোগগুলো খুব মারাত্মক না হলেও খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে ভুক্তভোগীর কাছে। কারণ, সারাক্ষণ নাক দিয়ে শ্লেষ্মার সাথে পানি ঝরা ও ঘন ঘন হাঁচি প্রচণ্ড বিরক্তির উদ্রেক করে। যেকোনো চিকিৎসকই এর সমাধান দিতে পারে। কিন্তু অনেকেই বিশেষজ্ঞের চেম্বারে ভিড় করছেন দ্রুত সুস্থ হতে ও কার্যকর উপদেশ পেতে।
বারবার বৃষ্টিতে ভেজা, ভেজা কাপড় দীর্ঘ সময় পরে থাকা, কাদাপানি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে অবস্থান এবং ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এ সময় তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুমী ভাইরাসজনিত জ¦রে আক্রান্তদের বেশির ভাগই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিমাণ মতো পানি পান, পৃষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে সুস্থ হয়ে যায়। তবে তিন দিনের বেশি জ¦র থাকলে, শ^াসকষ্ট, তীব্র কাশি বিশেষ করে শ^াকষ্টের সময় শিশুদের বুক দেবে গেলে বা ব্যথা হলে, অস্বাভাবিক দুর্বলতায় ভুগলে দেরি না করে চিকিৎিসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মো: আতিয়ার রহমান বলেন, সর্দি-কাশি ও হাঁচির শুরুতে প্যারাসিটামল ও ভিটামিন সি জাতীয় ফল খেলে ভাইরাল অসুখগুলো সেরে যায়। কিন্তু এক নাগাড়ে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে তখন আর দেরি করা যাবে না, চলে আসতে হবে চিকিৎসকের কাছে। নিজে নিজে অথবা ওষুধের দোকানির কাছ থেকে ওষুধ নেয়া, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক নেয়া যাবে না। কারণ, একজন চিকিৎসকই ভালো জানেন কোন রোগের জন্য কী ওষুধ দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্ষাকালে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যাদের বৃষ্টিতে ভিজলেই জ¦র কিংবা সর্দি-কাশি হয় তাদের। বৃষ্টি এড়িয়ে যেতে না পারলে ঘরে এসেই ভেজা কাপড় বদলিয়ে শরীরকে গরম করতে হবে। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বাস করা উচিত নয়।
এই সময় কয়েক ধরনের ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায়। সে কারণে বাইরে থেকে এসেই সাবান দিয়ে দুই হাত ধুয়ে শিশু ও বয়স্কদের ধরতে হবে, খাবার খেতে হবে। বর্ষাকালের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সামান্য সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
এদিকে কৃষি বিভাগ চাষিদর জন্য কিছু বার্তা দিয়েছে। তারা ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যাকবলিত হওয়ার আগেই দ্রুত পরিপক্ব সবজি সংগ্রহ করে ফেলতে বলেছে। সেই সাথে নিষ্কাশন নালা পরিষ্কার রাখতে ও ধানের জমিতে পানি জমে না থাকতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একই সাথে জমির আইল উঁচু করে নিতে এবং সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। কলা ও অন্যান্য উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল এবং সবজি যেন বাতাসে অথবা বৃষ্টির তোড়ে হেলে না পড়ে সেজন্য জন্য খুঁটির ব্যবস্থা করতে হবে। পুকুরের চারপাশ উঁচু করতে হবে, যাতে মাছ ভেসে যেন না যায়।