জুলাই গণ অভ্যুত্থান রায় সংসদে বিশেষ আইন প্রয়োজন: ফুয়াদ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর ও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। একই সাথে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও অর্জন সংরণের জন্য একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা বা বিকৃত করার সুযোগ না পায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট ল্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এই অঞ্চলের শত শত বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ঘটনা। এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কোটি মানুষের সম্মিলিত স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে আন্দোলনের অসংখ্য দৃশ্য, ভিডিও এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ঘটনা সংরতি রয়েছে। ফলে এই ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। প্রতি বছর নতুন নতুন ভিডিও, নতুন নতুন তথ্য সামনে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জুলাইকে আরও গভীরভাবে জানবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ ও যুবসমাজই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিকানা গ্রহণ করছে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয়, নিজেদের বিশ্বাস ও চেতনা থেকে জুলাইকে ধারণ করছে। গত এক দশকের বিভিন্ন গণআন্দোলনের মতোই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও মূলত তরুণদের নেতৃত্বে সফল হয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব, প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রচিন্তার পরিবর্তনকে উপলব্ধি করা। অন্যথায় তারা সময়ের সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
ফুয়াদ বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে পারিবারিক, বংশগত কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা এখন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়। তারা এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ব্যক্তি বা পরিবারের পূজা নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে জনগণের আকাঙ্া, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের মতো তাদেরও রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রা করতে হলে সংসদে একটি বিশেষ আইন পাস করা প্রয়োজন। সেই আইনের মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন, গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা সংরণ এবং এর ইতিহাস বিকৃত বা অবমাননার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়াও চলবে।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। ১২০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া স্বাধীনতা ও মুক্তির দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সেই সংগ্রাম চলতেই থাকবে। তিনি বলেন, জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের একটি চলমান অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।