লেবাননে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি অ্যামনেস্টির

Printed Edition

মিডল ইস্ট মনিটর

লেবাননের দণিাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলাকে এবার ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছে বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত মার্চ মাসে চালানো তিনটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি ও লেবাননি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার প্রোপটে গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এই দাবি জানায়।

গতকাল প্রকাশিত এক বিশেষ রিপোর্টে মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ওই তিনটি ইসরাইলি হামলায় ১২ জন নিষ্পাপ শিশুসহ ২৪ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হওয়ায় বিষয়টিকে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করতে হবে। জানা গেছে, গত ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে সায়দার কাছাকাছি এরকাই অঞ্চলের পাশাপাশি টায়ার ও নাবাতিহ শহরের জনবহুল আবাসিক বাড়িঘর ল্য করে এই ভয়াবহ বিমান হামলাগুলো চালিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে তীব্র ােভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননে ডজনখানেক শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এটি বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি ইসরাইলের চরম ও নির্মম উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টটি তৈরির আগে গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছে অ্যামনেস্টি। তারা হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের আত্মীয়স্বজন, উদ্ধারকর্মী, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদেরসহ মোট ১৫ জনের সরাসরি সাাৎকার ও স্যা গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, সংগৃহীত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও আলামত বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে যে ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন পুরোপুরি পদদলিত করেছে। তারা সামরিক ল্যবস্তুর তোয়াক্কা না করে সরাসরি বেসামরিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের য়তি কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেনি।

হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন ছাড়বে না ইসরাইল

এদিকে আল জাজিরা জানায়, লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলের প্রতিরামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে তাদের অবস্থান বজায় রাখবে।

কাটজ জোর দিয়ে বলেন যে লেবাননে প্রবেশ বা সেখানে অবস্থানের জন্য ইসরাইলের কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং গ্যালিলিসহ ইসরাইলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করলেও, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরামন্ত্রী কাটজ দু’জনেই পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে উত্তরাঞ্চলের ওপর থেকে হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করে প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে যাবেন।