ফরিদগঞ্জে সম্পদে এগিয়ে বিএনপি-স্বতন্ত্র মামলায় জোট প্রার্থী
Printed Edition
চাঁদপুর (ফরিদগঞ্জ) প্রতিনিধি
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। সম্পদের দিক থেকে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও মামলার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছেন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের প্রার্থী।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো: হারুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান এবং ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো: বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।
হলফনামা অনুযায়ী, সম্পদের হিসাবে সবার শীর্ষে বিএনপির প্রার্থী মো: হারুনুর রশিদ। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ১১ হাজার ১৪১ টাকা। নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, বিনিয়োগ, যানবাহন, স্বর্ণ, আসবাবপত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার অস্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৮ কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের বার্ষিক আয় ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় তুলনামূলক বেশি হলেও মোট সম্পদের হিসাবে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পেছনে রয়েছেন।
অন্যদিকে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো: বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বার্ষিক আয় মাত্র পাঁচ লাখ চার হাজার টাকা। পেশায় শিক্ষক এই প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
অবশ্য মামলার পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বিএনপি প্রার্থী মো: হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা থাকলেও এর মধ্যে দু’টি থেকে তিনি এরই মধ্যে খালাস পেয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল। যার মধ্যে দুটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মো: বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে ১৫টি মামলা হয়। এর মধ্যে ৯টি থেকে তিনি খালাস পেলেও বাকিগুলো এখনো চলমান। রাজনৈতিক মামলায় তাকে প্রায় এক বছর ছয় মাস কারাবরণও করতে হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে তিনজনই প্রভাবশালী। মো: হারুনুর রশিদ সাবেক সংসদ সদস্য, এম এ হান্নান দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর মো: বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বর্তমানে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির।