শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী টাইগ্রেসরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে। আর শ্রীলঙ্কাও প্রথম দুই ম্যাচে জিতে গ্রুপ বি-তে শক্ত অবস্থানে আছে। এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের শুরুটা হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও উজ্জ্বল। ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুধু দুই পয়েন্টই নয়, আত্মবিশ্বাসের পুঁজি নিয়েই পরের পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ যে আর সদ্য দল নয়- সামনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৮টায় তাই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সামর্থ্যরে প্রথম বড় পরীক্ষা।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল বোলিং। ২০ ওভারে ১২৯ রান করার পর ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭১ রানের জয় পেয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল; অর্থাৎ বাংলাদেশের বোলাররা নিয়েছেন প্রতিপক্ষের সব ক’টি উইকেট। বাঁ হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। মারুফা আক্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রানটা খুব বড় না হলেও শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝড় পরিস্থিতি বদলে দেয়। তিনি মাত্র ১৮ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন। শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করে ৪০ রান। অর্থাৎ ব্যাটিংয়ে এখনো আরো ধারাবাহিকতা দরকার- বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে।

অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার শুরুটা আরো ভয়ঙ্কর। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শুধু ম্যাচ জেতেনি, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৭৫ রানের জয় পেয়েছে। সেই ম্যাচে অধিনায়ক ও দলের সবচেয়ে বড় তারকা চামারি আতাপাত্তু বল হাতে অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন- মাত্র ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট। এশিয়া কাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে ছয় বা তার বেশি উইকেট নেয়া প্রথম বোলার হয়েছেন তিনি।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আতাপাত্তুকে থামানোর পাশাপাশি হারশিতা সামারাবিক্রমা, নীলাক্ষিকা সিলভা, কাভিশা দিলহারিদের সামলাতে হবে। নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে- কিন্তু বাংলাদেশের শক্তি এখন আত্মবিশ্বাস ও দলীয় ভারসাম্য।

পরিসংখ্যানও অবশ্য শ্রীলঙ্কার পক্ষেই কথা বলছে। সর্বশেষ ১০ টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের হিসাবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র ২টি, শ্রীলঙ্কা জিতেছে ৮টি। তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ একেবারে অসহায়ও নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুই দলের টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ একটি ম্যাচ জিতেছিল, যদিও সিরিজে শ্রীলঙ্কার আধিপত্য ছিল। আরেকটি পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা। ২০২৪ নারী এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়ে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। ফলে এবারের ম্যাচটি শুধু গ্রুপের দুই পয়েন্টের লড়াই নয়; পুরনো হিসাব মেটানোর সুযোগও।

তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা-প্রথম ম্যাচের বোলিং আত্মবিশ্বাস। নাহিদা, মারুফা, রাবেয়া খানদের নিয়ে গড়া আক্রমণ যদি আতাপাত্তুদের ব্যাটিংয়ে লাগাম পরাতে পারে, তাহলে ১২০-১৩০ রানও লড়াইয়ের পুঁজি হয়ে উঠতে পারে। দুবাইয়ের উইকেটে স্পিনাররা কার্যকর হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

গ্রুপের সেরা দুই দল যাবে সেমিফাইনালে। তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় মানে শুধু আরেকটি দুই পয়েন্ট নয়- শেষ চারে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তারা জিততে জানে। এবার সামনে প্রশ্নটা আরো কঠিন- চ্যাম্পিয়নদের হারানোর মতো ক্রিকেটও কি খেলতে পারে? উত্তরটা মিলবে দুবাইয়ের বাইশ গজে। আর সেই উত্তরের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট।