এশিয়াডে নেই কেন রুবেল-সাব্বির

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একজন বল হাতে আগুন ঝরালেন। সাত ম্যাচে শিকার করলেন ২৩ উইকেট। আরেকজন দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে ব্যাট হাতে দেখালেন নিজের সামর্থ্য। টপ-এন্ড টি-২০র মঞ্চে মোহাম্মদ রুবেল ও সাব্বির রহমান-দুজনেই আলোচনায়। অথচ যখন এশিয়ান গেমসের দল ঘোষণা হলো, সেখানে দুজনেরই নাম নেই! ২৩ উইকেটের পরও জাতীয় দলের দরজা এই মুহূর্তে বন্ধ মোহাম্মদ রুবেলের। কারণ জানালেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এমন পারফরম্যান্সের পরও কেন জায়গা হলো না তাদের? উত্তরটা আসলে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে সময়ের হিসাবের সাথে বেশি জড়িত! এশিয়ান গেমসের নিয়ম অনুযায়ী, মূল আসরের প্রায় তিন মাস আগেই ৩০ সদস্যের দল জমা দিতে হয়। সেই সময় রুবেল নির্বাচকদের আলোচনায় ছিলেন না। পরে টপ-এন্ডে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও নিয়মের বেড়াজালে আটকে গেছে তার এশিয়ান গেমসের স্বপ্ন। বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে রুবেলকে সুযোগ দেয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ এশিয়ান গেমসে যে ৩০ জনের দল দিতে হয়, সেটা দিতে হয়েছে তিন মাস আগে।’

বাশার আরো বলেন, ‘গেমসের কিছু নিয়মকানুন আছে। সেখানকার বাইরে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকে না। এটা গেমসের নিয়ম। যখন আমরা দলটা দিয়েছি তখন আসলে রুবেলের পারফরম্যান্স অতটা উল্লেখযোগ্য ছিল না। বর্তমানে তিনি খুব ভালো করেছেন। মালয়েশিয়ায় ভালো বোলিং করেছেন, টপ-এন্ডে ভালো বোলিং করেছেন। অবশ্যই তিনি হয়তো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় থাকবেন।’

গল্পটা প্রায় একই সাব্বির রহমানের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে টপ-এন্ড টি-২০তে ব্যাট হাতে নজর কেড়েছেন। কিন্তু এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পাওয়ার মতো সময় আর পাননি, ‘সাব্বির কে নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। টি-২০ ফরম্যাটে টপ-এন্ডে ভালো ব্যাটিং করেছেন। সাব্বিরের সুযোগটা এখনো আসেনি। সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে, পরিকল্পনায় সে আছে। রুবেলের মতো ও একেবারে চিন্তাভাবনার বাইরে নয়, সাব্বিরও বাদ পড়েনি। ও অনেকদিন পর দলে কামব্যাক করেছে। ভবিষ্যতে কী হবে দেখা যাক।’

তাহলে কি জাতীয় দলের দরজা খুলতে আরো অপেক্ষা করতে হবে সাব্বিরকে? বাশারের বক্তব্যে অবশ্য অপেক্ষার মধ্যেই আশার ইঙ্গিত রয়েছে। জাতীয় দলের বাইরে বসিয়ে না রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টে সুযোগ দেয়ার কথা ভাবছে নির্বাচকেরা। বাশার বলেন, ‘সাব্বিরকে বসিয়ে না রেখে লম্বা সময়ের পরিকল্পনা ভেবে তাকে ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টে সুযোগ দেয়া। সাব্বিরের সক্ষমতা আছে। সে প্রমাণ করতে পারবে নিজেকে। কন্ডিশন অনুযায়ী দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

এশিয়ান গেমসের দরজা তাই রুবেল ও সাব্বির- দু’জনের জন্যই আপাতত বন্ধ। তবে গল্প শেষ হয়নি। বরং টপ-এন্ডে পাওয়া সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের সামনে নতুন গল্পের শুরু করে দিয়েছে।

রুবেলের ২৩ উইকেট হয়তো এশিয়ান গেমসের দল বদলাতে পারেনি। সাব্বিরের ব্যাটও পারেনি। কিন্তু দুজনের পারফরম্যান্স যে নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে, সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি! উল্লেখ্য, সাব্বির রহমান ২০১০ এর গুয়াজু এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন। তার একাধিক ছক্কাতেই আফগানদের হারিয়ে স্বর্ণ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।