এবার ৭ ভেনুতেই ফুটবল লিগ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাফুফে এখনো ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ শুরুর পক্ষে। ক্লাবগুলোকে এই নির্দেশনা দিয়ে বাফুফে আগেই চিঠি দিয়েছে। তবে ওই তারিখে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরু হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। শীর্ষ দল মোহামেডান এখনো অনুশীলন শুরু করেনি। মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানান, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা তো জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাথে ক্যাম্পে। ওদের ছাড়া কিভাবে অনুশীলন শুরু করব।’ সাদাকালোদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অপর শীর্ষ দল ঢাকা আবাহনী আজ থেকে শুরু করতে যাচ্ছে তাদের অনুশীলন। একটি দলকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামানোর আগে কোচরা ছয় সপ্তাহের সময় নেন ফুটবলারদের প্রস্তুত করতে। সেখানে হাতে সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। সেই হিসাবে অনিশ্চিতই বলা যায় ১৮ তারিখে দেশের শীর্ষ লিগ শুরু হওয়াটা। তবে লিগ যখনই শুরু হোক না কেন এবারের লিগ হবে সাত ভেনুতে। তা জানান বাফুফে সদস্য এবং পেশাদার লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামে যদি লিগ ও ফেডারেশন কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো হয় তাহলে প্রথম বারের মতো আট ভেনুতে গড়াবে এবারের ফুটবল।

সাত ভেনুতে এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগ না করেও উপায় নেই। কারণ এবার ১৩ দলের লিগ। ফিফার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল তিন ক্লাব বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী এবং ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুল। খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের ফিফা নির্ধারিত ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এদের নিষেধাজ্ঞা মুক্তি নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। তাই আরো তিন দলকে অনুমতি দেয়া হয় এবারের লিগে খেলার। এই কারণেই ১০ ক্লাবের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ১৩ দলের লিগ। একটি স্টেডিয়াম সর্বোচ্চ দুই দল হোম ভেনু করতে পারবে। এএফসি-ফিফার এই নিয়মের কারণে একটি স্টেডিয়াম দুই দলকেই ব্যবহার করতে হবে। তাই এবার প্রথমবারের মতো ১৩ দলের অংশগ্রহণে সাত ভেনুতে একযোগে হতে যাচ্ছে খেলা। এই ভেনুগুলো হলো কিংস এরিনা, মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়াম, মানিকগঞ্জ স্টেডিয়াম, কুমিল্লা স্টেডিয়াম, গাজীপুর স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম এবং নতুন ভেনু চাঁদপুর স্টেডিয়াম। গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে আগেও খেলা হয়েছিল। পরে আর হয়নি।

কোন স্টেডিয়াম কোন দলকে বরাদ্দ দেয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, ‘আমরা পরে ক্লাবগুলোকে স্টেডিয়াম বরাদ্ধ দেবো।’ ইতোমধ্যে চাঁদপুর স্টেডিয়াম চেয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। গত সিজনে কিংস এরিনা হোম ভেনু হিসেবে ব্যবহার করেছিল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি। দুই ক্লাব তাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেছিল এই মাঠে। জয়ও পেয়েছে। ফর্টিস তো সর্বশেষ এই কিংস এরিনাতে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচে ১-০তে হারায় কিরগজিস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে। ঢাকা আবাহনী ও মোহামেডান গত বছর তাদের হোম ভেনু করেছিল কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে।

দেশের ফুটবলে জনপ্রিয় একটি ভেনু ছিল ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন স্টেডিয়াম। তবে এখন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের কোনো ক্লাবই আর এই স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করতে চায় না। জাকির হোসেন জানান, ‘কী চমৎকার এই ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম। ড্রেসিং রুমও চমৎকার। সে সাথে নীলফামারী স্টেডিয়ামও। অথচ কোনো ক্লাব না চাওয়ায় আমরা এই ভেনুগুলোকে কাজে লাগাতে পারছি না।’ একইভাবে নোয়াখালী স্টেডিয়াম, রাজশাহী স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়ামে হচ্ছে না পেশাদার লিগের কোনো খেলা। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে পেশাদার লিগের খেলা তো অনেক আগ থেকেই বন্ধ। এবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি এফসি। বিসিএল থেকে বিএফএলে কোয়ালিফাই করার সময় এই ক্লাবের কর্মকর্তারা বলেছিলেন তারা চট্টগ্রামেই হোম ভেনু করবেন। বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া আগে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম, খুলনা স্টেডিয়াম, নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়াম এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামে পেশাদার লিগের খেলা হতো। তা বেশ কয় বছর আগে। খুলনা স্টেডিয়াম ভেনু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল পেশাদার লিগ শুরুর প্রথম দিকে। তখন খুলনা আবাহনী খেলতো লিগে। খুলনা আবাহনীর বিদায়ের পর খুলনা থেকে আর কোনো দল দেশের শীর্ষ লিগে খেলেনি। ফলে ভেনুও আর হয়নি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বাফুফের সহসভাপতি থাকার সময় ফের খুলনাতে ভেনু করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু বাফুফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিজে বাহ্বা কুড়ানোর চেষ্টা করলে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। জয়ই এ তথ্য দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এখনো ঢাকার ক্লাবগুলোর আধিক্য। একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি এফসি ছাড়া বাকি সব ক্লাবই রাজধানীকেন্দ্রিক। এই ক্লাবগুলো তাদের আর্থিক দুরবস্থার কারণে দূরে গিয়ে ম্যাচ খেলতে চায় না। নীলফামারী, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ভেনুর প্রতি ক্লাবগুলোর চরম অনীহা এই কারণেই। তবে এএফসি-ফিফা যদি হোম ভেনু বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ না করত তাহলে ঢাকার বাইরে এক পাও নড়ত না এই ক্লাবগুলো।