লংমার্চ কর্মসূচি কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয় : ডা: শফিক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, লংমার্চ কোনো প্রিম্যাচিউর কর্মসূচি নয়। আমাদের এ কর্মসূচি কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। মন্ত্রীদের কে কী বললেন, সেটি তাদের ব্যাপার। ১১ দলীয় জোটের ডাকা লংমার্চ কর্মসূচিকে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী ‘প্রিম্যাচিউর’ এবং এ ধরনের কর্মসূচির কারণে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে- এমন বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের আগস্টের পর জনগণ যে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ দেখতে চেয়েছিলেন, তা এখনো তারা দেখতে পাচ্ছেন না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ কারণেই আমাদের পেরেশানির জায়গা থেকে জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা এই কর্মসূচি দিয়েছি। দেশে এমন ‘ম্যাচিউরিটি’ দেখা যাচ্ছে, যার কারণে মানুষ আজ অতিষ্ঠ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সবাই মিলেমিশে আমরা একসাথে প্রিয় বাংলাদেশ গড়ব। সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশের, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া-আখেরাত সুন্দর হওয়ার বাংলাদেশ।
ভালো দেশ গড়তে ভালো নাগরিক প্রয়োজন
এর আগে হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে, রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে। ভালো দেশ গড়তে ভালো নাগরিক প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা অনেকটা উপেক্ষিত। এ বিষয়ে তারা সংসদে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন। ধর্মীয় শিক্ষার বিকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র আরো উপকৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কওমি ও হিফজ শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্তদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ন্যায্য অংশ দেয়ার দাবি জানিয়ে ডা: শফিক বলেন, যারা কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজের শিক্ষা ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের যথাযথ ‘কমিটমেন্ট বা ডেলিভারি’ নেই। এটিকে তিনি বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বিরুদ্ধে আমরা কথা বলেছি। তাদের প্রাপ্য অংশ তাদের দিতে হবে। এটি চাওয়ার বিষয় নয়; এটি দেয়ার এবং কর্তব্য পালনের বিষয়।
আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার দাবি
৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন জানিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তাহফিজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। সৌভাগ্যের বিষয়, চারজনই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং বাকি তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছেন। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী চারজনই বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশকে শতভাগ সফলতা এনে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে বায়তুল হারামের মতো সম্মানিত স্থানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা দেখা গেলেও এটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনা হাফেজে কুরআনদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেয়া হয়। অথচ হাফেজে কুরআনরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সে ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, গতকাল সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং সরকারকে বিজয়ীদের সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের সম্মানিত করা হলে দেশও সম্মানিত হবে। আমি আজ আবারো এই দাবি জানাচ্ছি। শুধু সংবর্ধনা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যারা সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের আরো বিভিন্নভাবে সম্মানিত করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজয়ী হাফেজদের পাশাপাশি তাদের গড়ে তোলা শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন জামায়াত আমির ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডক্টর খলিলুর রহমান মাদানী। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র ও শিক্ষক এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।