২ মাসে ৯ খুন, উদ্বিগ্ন রায়পুরবাসী

Printed Edition

হারুনুর রশিদ রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, মাদক, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও অপহরণের জেরে এসব প্রাণহানি ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২৫ জুন রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায়। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে সন্দেহভাজন এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হন। এ ছাড়া, মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ছুরিকাঘাতে টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জমি-সংক্রান্ত বিরোধে চরপাতায় মো: হানিফ (৬২), নয়ারহাটে নিখোঁজের পর শিশু সানি এবং দক্ষিণ গাইয়ারচরে অপহরণের পর অটোরিকশাচালক রাজিব (১৮) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পুরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নেশার টাকার জোগান দিতেই চুরি, ছিনতাই ও হত্যার মতো অপরাধ ঘটছে। রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার নির্দেশনায় আমরা মাদক নির্মূলে কাজ করছি। তবে কিছু অসাধু চক্র সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অপরাধমুক্ত রায়পুর গড়তে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নাজমুল হুদা বলেন, মাদক সমাজ ধ্বংস করছে। এর বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অপরাধ ঘটার পর তৎপরতা না দেখিয়ে পুলিশকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদকের বিস্তার ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রয়োজন। রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।