ল্যাতিন ছন্দ নাকি আফ্রিকার শক্তি
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ল্যাতিন আমেরিকার ছন্দ বনাম আফ্রিকার শক্তি। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ঘানা। দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক আকর্ষণীয় সংঘর্ষ। কারিগরি দক্ষতা, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং বলের নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী কলম্বিয়া। অন্য দিকে আফ্রিকার অন্যতম প্রতিভাবান দল ঘানা। যাদের আছে শক্তি, গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও লড়াকু মানসিকতা। দুই ভিন্ন মহাদেশের লড়াইটি হবে বাংলাদেশ সময় কাল সকাল সাড়ে ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে।
পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল কলম্বিয়া। আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলা তাদের অন্যতম শক্তি। বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্য নিয়ে সুযোগ তৈরি করার প্রবণতা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত করে কলম্বিয়া।
কলম্বিয়ার আক্রমণের অন্যতম শক্তি তাদের বৈচিত্র্য। উইং দিয়ে আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল এবং দূরপাল্লার শট- সব মিলিয়ে তারা বিভিন্ন উপায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করবে। ফুল-ব্যাকদের আক্রমণে অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হলে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। এ ম্যাচটি জিতলে নেস্তর লরেঞ্জোর দল শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বা আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে এবং এরপর সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।
এই ম্যাচের আগে কোনো ইনজুরিসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা জানায়নি কলম্বিয়া। তাই আশা করা হচ্ছে যে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি পূর্ণ শক্তির স্কোয়াডই পাবে। শুরুর একাদশে কোনো চমক থাকার সম্ভাবনা কম, যেখানে লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ এবং জেমস রদ্রিগেজ আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন। গত ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে সুয়ারেজ কেবল বেঞ্চ থেকে নেমে খেলেছিলেন, কারণ এই ম্যাচের আগে তার সামান্য ইনজুরি নিয়ে সংশয় ছিল, কিন্তু স্পোর্টিং লিসবনের এই স্ট্রাইকার শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ ফিট।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা ঘানার রয়েছে; তারা ২০০৬ সালে শেষ ষোলোতে উঠেছিল এবং ২০১০ সালে জাতীয় দলটি খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। কার্লোস কিয়েরোজের দল গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার পেছনে থেকে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট অর্জন করাই শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে অন্যতম সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী হিসেবে ৩২ দলের রাউন্ডে তাদের জায়গা নিশ্চিত করে।
আবারো নিজেদের প্রমাণ করেছে ঘানা, বড় টুর্নামেন্টে তারা কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আফ্রিকান দলগুলো স্বাভাবিকভাবে শারীরিক শক্তির সাথে রয়েছে টেকনিক্যাল দক্ষতা ও গতি। প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা এবং ম্যাচের গতি বদলে দেয়ার ক্ষমতা তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। গ্রুপ পর্বে কঠিন লড়াই পেরিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠায় তাদের আত্মবিশ্বাসও রয়েছে তুঙ্গে।
ঘানার প্রধান উদ্বেগ আন্তোয়ান সেমেনিয়োকে ঘিরে, কারণ ম্যানচেস্টার সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় গোড়ালির সমস্যায় ভুগছেন। তবে আশা করা হচ্ছে যে ২৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় শুরুর একাদশেই মাঠে নামতে পারবেন। লরেন্স আতি জিগির ফিটনেস নিয়েও সংশয় রয়েছে, তাই আফ্রিকান দলটির হয়ে গোলপোস্টের নিচে বেঞ্জামিন আসারেরই থাকার সম্ভাবনা বেশি। জর্দান আয়ু জাতীয় দলের হয়ে ৩৪ বার গোল করেছেন। এই অভিজ্ঞ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এই নকআউট পর্বেও দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার এই লড়াইটি হবে প্রথম সাক্ষাৎ। তাই কালকের ম্যাচটিতে ইতিহাস রচিত হবে কানসাস সিটিতে।