অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণে জলিল টেক্সটাইল মিলস পেল সেনাবাহিনী
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী হিসেবে গড়ে তুলে রফতানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনসক্ষমতা বাড়বে এবং একই সাথে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিলস মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইলকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) পক্ষে সংস্থার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার সাজিয়ে তাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান বক্তব্য রাখেন।
প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত দুই-তিন দশক ধরে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সঙ্ঘাত তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষত তুলনামূলক কম ব্যয়ে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একটি দেশের সামরিক সক্ষমতাকে কতটুক প্রভাবিত করতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেইসাথে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রাখার প্রচলিত ধারণার ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করতে হবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোন ও অন্যান্য আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তারা তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম উৎপাদন করছে। বাংলাদেশের জন্যও এক্ষেত্রে বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রফতানির সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিতে পারবে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা পণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ থাকবে। দেশের সব ধরনের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির সাফল্য শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না; এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্প সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, দেশের বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো আবার চালু করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আজ যে জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে। অবস্থানগত ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমিটি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য উপযোগী। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় শিল্প ও অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, বিওএফ সম্প্রসারণ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে না; প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে।