দূষণে বিপর্যস্ত ইলিশের প্রজননক্ষেত্র
Printed Edition
বাকৃবি প্রতিনিধি
পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের ইলিশের উৎপাদন সম্প্রতি কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হওয়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রগুলো হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) গবেষক ও পরিকল্পনা শাখার পরিচালক ড. মো: আমিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রূপালি ইলিশ : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ড. মো: আমিরুল ইসলাম আরো বলেন, সম্প্রতি ইলিশের উৎপাদন কমতে শুরু করায় বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা নীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পরিবেশ দূষণ। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে ১ নম্বর অভয়াশ্রমে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের কারণ ও এর সমাধান সম্পর্কে জানা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ইলিশসহ মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আলী রেজা ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম এবং মৎস্য অধিদফতর ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
সেমিনারে ইলিশের অতীতের প্রাপ্যতা ও বর্তমানে এর পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. জোয়ার্দ্দার ফারুক আহমেদ ও অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ।
অধ্যাপক ড. মো: আলী রেজা ফারুক বলেন, ইলিশ ও স্যামন প্রজাতির মাছ প্রতিকূল পরিবেশ ও হিংস্র শিকারির নানা ঝুঁকি মোকাবেলা করে হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জন্মস্থানে ফিরে আসে ডিম ছাড়ার জন্য। এই প্রাকৃতিক জীবনচক্র সচল রাখতে কৃত্রিম ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে তাদের বিচরণের পথ নিরাপদ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদে কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল আলীম, বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তাসহ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।