নতুন ভিসানীতিতে বিদেশী সাংবাদিকদের কাজে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার চায় এফবিজেএ

Printed Edition

ফ্রান্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশের নতুন ভিসানীতি ২০২৬-এর আওতায় বিদেশী সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের কাজের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ)। সংগঠনটি বলেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে বিদেশী সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অযাচিত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, হস্তক্ষেপ বা বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্যারিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফবিজেএ নতুন ভিসানীতির আওতায় বিদেশী সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতাদের জন্য আরোপিত শর্তগুলোর তীব্র সমালোচনা করে। সংগঠনটির কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস সেলের পক্ষে বিবৃতিতে সই করেন নিয়াজ মাহমুদ ও মোমিন আনসারি।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন নীতির আওতায় বিদেশী সাংবাদিকদের বাংলাদেশে অবস্থান করে সংবাদ, প্রতিবেদন বা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার মনোনীত একজন প্রতিনিধির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার মতো শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফেরার আগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা নির্মাতাকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি সংগ্রহ করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের শর্ত স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে।

সংগঠনটির মতে, একজন সাংবাদিকের কাজের মূল ভিত্তি হলো স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বলা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সম্পাদকীয় নীতির আলোকে প্রতিবেদন তৈরি করা। সংবাদ সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলে সাংবাদিক ও তার সংবাদসূত্রের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সাথে সাক্ষাৎকারদাতা বা তথ্যদাতারা নিজেদের বক্তব্য প্রকাশে অস্বস্তি কিংবা অনীহা বোধ করতে পারেন। ফলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সংবাদ ও তথ্যের বৈচিত্র্য এবং নিরপেক্ষতার ওপর পড়তে পারে।

বিবৃতিতে জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে এফবিজেএ বলেছে, ওই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বাধা ও নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থান। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ এমন একটি পরিবেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিল, যেখানে সাংবাদিকরা ভয়, চাপ কিংবা অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে এমন কোনো নীতি বা ব্যবস্থা গ্রহণ, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিবৃতির শেষাংশে এফবিজেএ বিশ্বের সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে, যারা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অবাধ তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের ভয় বা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সত্য ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের নতুন ভিসা নীতিতেও সেই নীতির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে মত দিয়েছে এফবিজেএ।