বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান সঙ্কটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত এটি নয় যে ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে কি না, কিংবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবে নয়াদিল্লি সফরে যাবেন। এর চেয়েও বড় প্রশ্ন, দুই দেশ কি তাদের সম্পর্কের পুরনো কাঠামো থেকে বেরিয়ে একটি নতুন ‘পারস্পরিক স্বার্থের সমীকরণ’ তৈরি করতে পারবে?

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই প্রশ্নেরই একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই কার্যকরভাবে এগোয়, যখন উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গা খুঁজে পাওয়া যায়। কথাটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ কূটনৈতিক দর্শন। কিন্তু ঢাকা-দিল্লির বর্তমান বাস্তবতায় এর তাৎপর্য গভীর।

কারণ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্র ছিল মূলত রাজনৈতিক আস্থার ওপর। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশও পেয়েছিল রাজনৈতিক সমর্থন, অবকাঠামোগত সহযোগিতা, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও যোগাযোগের সুবিধা, আর কৌশলগতভাবে নত থাকার বাধ্যবাধকতা।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই পুরনো সমীকরণ কার্যত ভেঙে গেছে। এখন ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্গঠন করতে হবে।

‘কমন গ্রাউন্ড’ কূটনৈতিক সৌজন্য, নাকি কৌশলগত বার্তা
জয়শঙ্করের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি নির্দিষ্ট ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ঘোষণা করেননি; বরং সম্পর্কের একটি নীতিগত কাঠামো তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ ভারত তার নিজের স্বার্থ যেমন বিবেচনা করবে, তেমনই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থও বিবেচনায় নেবে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। কূটনীতিতে ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ কথাটি অনেক সময় সমস্যার সমাধানের চেয়ে দরকষাকষির ক্ষেত্র তৈরি করে। অর্থাৎ ভারত যদি বলে তার নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সীমান্ত, বাণিজ্য ও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ; বাংলাদেশও বলতে পারে তার জন্য পানি, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্য ভারসাম্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, জ্বালানি নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ।

Flag-Ban-Ind

তাহলে ‘কমন গ্রাউন্ড’ কোথায়
সম্ভবত সেখানেই নতুন সম্পর্কের পরীক্ষা। ঢাকার জন্য ভারতের প্রয়োজন আছে- এটি যেমন অস্বীকারের সুযোগ নেই, তেমনই ভারতের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব কম নয়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব সম্পর্কের বাস্তব সমীকরণটি ‘কে কাকে বেশি প্রয়োজন’ এমন শূন্য-সম খেলার নয়; বরং প্রশ্ন হলো, দুই দেশ কিভাবে একে অন্যের প্রয়োজনকে নিজেদের কৌশলগত সম্পদে পরিণত করবে।

হাসিনা ইস্যু : অস্বস্তিকর প্রশ্ন
এই মুহূর্তে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাধা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্ন। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ দাবি করছে; ভারত এখনো বিষয়টি নিষ্পত্তি করেনি। এখানে ভারতের জন্যও জটিলতা রয়েছে। শেখ হাসিনা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; ভারতের সাথে তার সরকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। অনেকে শেখ হাসিনা ও তার দলকে বাংলাদেশে দেশটির কৌশলগত রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখেন।

কিন্তু ঢাকার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক নয়। এটি বিচার, সার্বভৌমত্ব এবং নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নের সাথে যুক্ত। ফলে হাসিনা ইস্যু যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার ছায়া থাকবে।

এখানেই ‘কমন গ্রাউন্ড’-এর ধারণাটি বাস্তব পরীক্ষায় পড়বে। ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চায়, তাহলে ঢাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা তারা কতটা স্বীকার করতে প্রস্তুত- তার একটি বড় পরীক্ষা হবে এই প্রত্যর্পণ প্রশ্ন। অনানুষ্ঠানিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির পক্ষ থেকে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে তাকে নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে নতুন বিচার শুরু করা এবং প্রয়োজনে গৃহবন্দী রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

’২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে দিল্লির চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিবেশ বর্তমান সরকারের সামনে কতটা আছে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আবার অনেকের মতে, বাংলাদেশের জন্যও প্রশ্ন আছে। ভারতকে কেবল হাসিনা ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সম্পর্ক পরিচালনা করলে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রত্যর্পণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু, বিশেষ করে যখন শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করেই দলবলসহ বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার হুমকি দিচ্ছেন। প্রত্যর্পণ ইস্যুর চেয়েও রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক অনেক বিস্তৃত।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর : বরফ গলার সুযোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। আনুষ্ঠানিক কোনো সূত্রই এ সফর হবে এমন নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। সফর হলে সেটি নিছক প্রটোকল সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি হতে পারে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন ভিত্তি নির্মাণের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

তবে সফরের সাফল্য নির্ভর করবে কী ধরনের অ্যাজেন্ডা নিয়ে দুই পক্ষ টেবিলে বসছে তার ওপর।

যদি আলোচনার কেন্দ্র হয় শুধু রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন, তাহলে তা সীমিত ফল দিতে পারে। যদি পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং বঙ্গোপসাগরকে একটি সমন্বিত কৌশলগত প্যাকেজের অংশ করা যায়, তাহলে সফরটি নতুন পর্বের সূচনা করতে পারে।

এখানে বাংলাদেশের উচিত একটি নীতি পরিষ্কার করা- ভারতের সাথে বন্ধুত্ব প্রয়োজন; কিন্তু নির্ভরতা নয়, সহযোগিতা প্রয়োজন; কিন্তু একতরফা ছাড় নয়। সুসম্পর্ক প্রয়োজন কিন্তু নত থাকার বিনিময়ে নয়।

ভারতের ‘ডি-রিস্কিং’ দর্শন এবং বাংলাদেশের শিক্ষা
জয়শঙ্করের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ডি-রিস্কিং’। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন।

এই দর্শনটি আসলে শুধু ভারতের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ যদি ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায়, তার অর্থ এই নয় যে তাকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে হবে। বরং বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত, সব পক্ষের সাথে সম্পর্ক রেখে নিজের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়ানো।

একইভাবে ভারতও যদি আশা করে যে ঢাকা তার নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনা করবে, তাহলে নয়াদিল্লিকেও বাংলাদেশের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হবে কোন একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। আর ভারতের জন্যও ভুল হবে বাংলাদেশকে স্বাধীন প্রতিবেশী হিসেবে না দেখে কেবল তার নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা।

চীন প্রসঙ্গ : ঢাকার জন্য নতুন কৌশলগত জায়গা
জয়শঙ্করের চীন সম্পর্কিত বক্তব্যও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সীমান্তে স্থিতিশীলতা থাকলে ভারত-চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। একই সাথে তিনি আত্মনির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এর একটি তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা বাংলাদেশের জন্য রয়েছে।

ভারত নিজেই যখন চীনের সাথে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা- দুই পথ একসাথে বিবেচনা করছে, তখন চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে চীনের ভূমিকা রয়েছে। একই সাথে ভারতের সাথে আছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

অতএব বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত, ‘ভারত না চীন’ নয়; বরং ‘বাংলাদেশের স্বার্থে ভারত ও চীন- উভয়ের সাথে কিভাবে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা যায়।’

আসল সমস্যা আস্থার
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান সঙ্কটের মূলে শুধু কিছু অমীমাংসিত ইস্যু নেই; আছে আস্থার ঘাটতি।

ভারতের একটি অংশের মধ্যে এখনো হয়তো ধারণা রয়েছে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশটিকে চীনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনমতের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে ভারত বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ ছিল এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাব বিস্তার করেছে।

এই দুই ধরনের ধারণা ভাঙতে হলে নতুন রাজনৈতিক ভাষা দরকার। সেই ভাষা হতে পারে- সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থ।

কিন্তু শব্দ দিয়ে আস্থা তৈরি হয় না; তৈরি হয় বাস্তব পদক্ষেপে।

সীমান্তে হত্যা কমানো, পানি সমস্যায় অগ্রগতি, বাণিজ্য বাধা কমানো, পণ্য পরিবহনে সুবিধা, ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংলাপ- এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ‘কমন গ্রাউন্ড’ কেবল কূটনৈতিক বাক্য হয়েই থাকবে।

বাংলাদেশের সুযোগ কোথায়
বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সঙ্কট যেমন, তেমনই সুযোগও। পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা চাইলে ভারতের সাথে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি দাঁড় করাতে পারে। সেই ভিত্তি হবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ।

বাংলাদেশের উচিত আলোচনার জন্য একটি সুস্পষ্ট ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ম্যাট্রিক্স’ তৈরি করা। কোন বিষয়ে ভারতের সাথে দ্রুত সমঝোতা প্রয়োজন, কোন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি প্রয়োজন এবং কোন বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আপসের সুযোগ নেই- তা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগের মতো বিষয়ে আবেগ নয়, পরিমাপযোগ্য জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনা দরকার।

দিল্লির জন্যও একটি বার্তা
ভারতের জন্যও বাংলাদেশের বর্তমান পরিবর্তনকে কেবল একটি ‘রাজনৈতিক অস্বস্তি’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব বাড়ছে। চীন তার প্রভাব বিস্তার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তিও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সক্রিয়।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সাথে স্থিতিশীল ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক ভারতের জন্য কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি শুধু নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়, তা টেকসই হবে না।

বাংলাদেশের জনগণ সম্পর্কের ফলাফল দেখতে চাইবে- কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের উষ্ণতা নয়।

নতুন সম্পর্কের সূত্র কী
জয়শঙ্করের ‘কমন গ্রাউন্ড’ কথাটি তাই উপেক্ষা করার মতো সাধারণ বক্তব্য নয়। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দুই পক্ষ এই ধারণাটিকে কিভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করে তার ওপর।

ঢাকার ‘কমন গ্রাউন্ড’ হতে পারে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের স্বীকৃতির বিনিময়ে বাংলাদেশের পানি ও সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থের স্বীকৃতি। ভারতের বাজার ও যোগাযোগ সুবিধার বিনিময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যসুবিধা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিনিময়ে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান।

আর রাজনৈতিক আস্থার বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পছন্দের প্রতি ভারতের নিরপেক্ষতা।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কে কাকে কতটা ছাড় দিলো- তা নয়; বরং দুই দেশ নিজেদের স্বার্থকে কতটা সমন্বিত করতে পারল।

হাসিনা প্রত্যর্পণ একটি বড় প্রশ্ন। তারেক রহমানের দিল্লি সফর একটি সম্ভাব্য নতুন সূচনা। কিন্তু এর বাইরে আরো বড় বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে পুরনো রাজনৈতিক নির্ভরতা থেকে বের করে স্বার্থভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের দিকে নেয়া।

জয়শঙ্কর ‘কমন গ্রাউন্ড’-এর কথা বলেছেন। এখন দেখার বিষয়- ঢাকা ও দিল্লি সেই অভিন্ন জায়গাটি কোথায় খুঁজে পায়।

কারণ একটি সত্য অনস্বীকার্য : প্রতিবেশী বদলানো যায় না; তবে সম্পর্কের কাঠামো বদলানো যায়।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

mrkmmb@gmail.com