দুই উপজেলা থেকে ৬ কার্টনে ভরা লাশের টুকরো উদ্ধার
হত্যাকারীরা মৃত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখতেই লাশের অর্ধেক অংশ কেরানীগঞ্জে বাকি অর্ধেক লৌহজং উপজেলায় ফেলেছে ।
স্থান
মুন্সিগঞ্জ
ঢাকা
Printed Edition
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি ও লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা থেকে ফলের কার্টনে থাকা লাশের খণ্ডবিখণ্ড টুকরো উদ্ধার হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশের খণ্ডিত টুকরো পড়েছিল কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে। কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও লাশের টুকরো ভর্তি কার্টন উদ্ধার করেনি। পুলিশের ক্রাইম সিন টিমের আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। সারাদিন সড়কের পাশে পড়ে থাকায় লাশের পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। উৎসুক মানুষ নাক চেপে দূর থেকে কাটনে মোড়ানো লাশের টুকরোগুলো দেখার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে টেপ মোড়ানো একই রকম আরো ৩টি কার্টনে লাশের খণ্ডবিখণ্ড টুকরো পাওয়া যায় মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে দুই জায়গায় ফলের কার্টনে যে লাশের টুকরোগুলো পাওয়া যায় তা একই ব্যক্তির। হত্যাকারীরা মৃত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখতেই লাশের অর্ধেক অংশ কেরানীগঞ্জে বাকি অর্ধেক লৌহজং উপজেলায় ফেলেছে ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডে গিয়ে দেখা যায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত আপেলের টেপ দিয়ে প্যাঁচানো তিনটি কাটন পড়ে আছে সড়কের পাশে। দু’টি কাটন একই স্থানে পাশাপাশি, আরেকটি একটু দূরে। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কাটনের উপর মাছি ভনভন করছে। কৌতূহলী মানুষ নাক চেপে ধরে লাশের খণ্ডগুলো দেখার চেষ্টা করছে।
এলাকাবাসী জানায়, সকাল ১১টার দিকে পড়ে থাকা কার্টনগুলো কয়েকটি কুকুর টানা হেঁচড়া করে। এতে একটি কার্টনের মুখ খুলে লাশের টুকরো বের হয়ে পড়ে। এরপর তারা পুলিশে খবর দিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের ক্রাইম সিনকে খবর দেয়। বিকেল পাঁচটায় পিবিআই, ক্রাইম সিন ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে কার্টন তিনটি উদ্ধার করে ঘটনাস্থলে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।
এতে দেখা যায়, অজ্ঞাত এক পুরুষ মানুষকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো টুকরো করে ৫ ভাগে বিভক্ত করে ছয়টি কার্টনে ভরা হয়। এরপর তিনটি কার্টন কেরানীগঞ্জে এবং তিনটি কার্টন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকায় ফেলে যায় খুনিরা। কেরানীগঞ্জে পাওয়া তিনটি কার্টনের একটিতে রয়েছে লাশের দুই হাত ও দুই পা এবং হাঁটু থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত। আরেকটি কার্টনে রয়েছে লাশের কোমর থেকে পেট ও পেট থেকে গলার অংশবিশেষ। আরেকটি কার্টনে রয়েছে গলার দুই টুকরা, হাতের কনুই থেকে আঙুল ও দুই হাতের আলাদা অংশবিশেষ। অন্যদিকে লৌহজং থেকে পাওয়া তিনটি কার্টনে রয়েছে লাশের মাথা, কোমর থেকে হাঁটুর নিচ ও শরীরের অন্যান্য অংশবিশেষ।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে মেদিনিমণ্ডল গার্লস কলেজের পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা স্কচটেপে মোড়ানো মানুষের মাথা ও শরীরের উরুর দু’টি টুকরা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাত-পা-শরীরের অন্যান্য অংশ কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় পাওয়া যায়। পৃথক স্থানে প্রাপ্ত খণ্ডিত লাশটি একই ব্যক্তির। লাশ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা অন্য কোথাও এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সোহরাব আল হোসাইন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকায় মানবদেহের হাত-পা-শরীরের খণ্ডিত অন্যান্য অংশ পাওয়া গেছে। লাশ একই ব্যক্তির কি না খণ্ডিত অংশগুলো মেলালে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এটা নিশ্চিত বলতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি জানান।