সিলেট নগরীতে তীব্র পানি সঙ্কট : জনদুর্ভোগ চরমে
Printed Edition
এম জে এইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সঙ্কট চরম আকার ধারণ করছে। গত এক সপ্তাহ তাপদাহ থাকায় নগরে এক দিকে বাড়ছে পানির চাহিদা অপর দিকে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত পাম্প চালু রাখায় বিঘœ ঘটছে। ফলে চাহিদা মতো পানি সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে সিসিক। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
গ্রাহকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত কয়েকদিন নগরীর সুবিদবাজার, বড়বাজার, পাঠানটুলা, খাসদবির, উপশহর, সোনারপাড়া, লামাপাড়া, শিবগঞ্জ, জেলরোড, বারুতখান, ভাতালিয়াসহ বেশকিছু এলাকায় পানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে ২৭টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এসব ওয়ার্ডে দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে সিটি করপোরেশন থেকে সাড়ে তিন কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ অর্ধেকের কমে নেমে এসেছে। ফলে সীমাহিন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১৩ কোটি লিটার। কিন্তু চার বছরেও বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে পানির লাইন চালু করা হয়নি। ফলে নগরীর অধিকাংশ মানুষ সিসিকের পানি সেবা থেকে বঞ্চিত। ব্যক্তিগত ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানির চাহিদা পূরণ করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দার এই নগরে ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশে পানির সংযোগ লাইন স্থাপন করা হলেও পানি স্বল্পতার কারণে এসব ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্য দিকে ২০২১ সালে নতুনভাবে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ড ও পুরনো তিনটি ওয়ার্ডে (২৫, ২৬ ও ২৭ নং) দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে সাত কোটি লিটার। তবে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এখনো পানির সংযোগব্যবস্থাই চালু হয়নি। পুরনো ওয়ার্ডগুলোতে বর্তমানের পানির গ্রাহক আছেন ২০ হাজার ৫৪ জন। তবে নগরের সচেতন বাসিন্দাদের দাবি, সিটি করপোরেশনের হিসাবের চেয়েও পানির চাহিদা বাস্তবে আরো অনেক বেশি।
সিসিকের পানি সরবরাহ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ৪৫টি উত্তোলক নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় চার কোটি লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত আট হাজার ২৫২টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পানি উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে কী পরিমাণ পানি উত্তোলন হচ্ছে, এই তথ্য করপোরেশনে সংরক্ষিত নেই। ফলে নগরীতে পানির চাহিদার সঠিক তথ্য আজও অজানা রয়ে গেছে।
নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের সোনারপাড়ার বাসিন্দা আলম মিয়া জানান, গত দুই দিন থেকে এক ফোঁটাও সাপ্লাই পানি পাননি। নির্দিষ্ট টাইমে পানি আসার কথা থাকলেও আসে না। সিসিকের পানি শাখার লাইনম্যানকে ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেন না। রিসিভ করলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে পানি দেয়া হবে জানালেও গত দুই দিন কোনো পানি সরবরাহ করা হয়নি।