ফেনীতে এ টি এম মা’ছুম

সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে দাবি আদায়

Printed Edition
3rd-4
ফেনী শহর শাখা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম : নয়া দিগন্ত

ফেনী অফিস

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ (এটিএম) মা’ছুম বলেছেন, গত দুই মাসে সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে তারা আওয়ামী স্বৈরশাসনের পুনঃআর্বিভাবের পাঁয়তারা করছে। জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে বুকলেটে পরিণত করছে। তা মানতে গিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের ভূমিকা পালন করছে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে প্রার্থক্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার বিএনপি এখন নেই। সরকারের মন্ত্রীরা রাস্তায় নামেন না, খোঁজখবর রাখেন না। আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ চাঁদাবাজি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এসব ব্যাপারে তাদের বক্তব্য নেই। ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংসপ্রায়। ইসলামী ব্যাংককে চিরতরে শেষ করার আয়োজন শুরু করেছে। আওয়ামী আমলের চেয়ে দেশ কোনো অংশে ভালো নেই। বিরোধীদল বাধ্য হয়ে রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছে। যারা সরকার পরিচালনা করছেন, তারা দেশকে ভালোবাসেন না। তাদের দেশ ধ্বংস করার সুযোগ দেয়া যায় না। জনগণকে নিয়ে দেশকে বাঁচাতে হবে। যতদিন পরিবেশ থাকবে ততদিন বিরোধীদল সংসদে থাকবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধান করা হবে। জামায়াত সংগ্রামী সংগঠন। সংগ্রামের মানসিকতা নিয়ে ইসলামের পক্ষে এগিয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল ফেনী শহর শাখার রুকনদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহর আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা। শহর সেক্রেটারি সামাউন হাসানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, সাবেক জেলা আমির এ কে এম শামছুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার, ফেনী জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ ও মাওলানা মাহমুদুল হক।

এ টি এম মাছুম আরো বলেন, জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে ভোট দিয়েছিল। বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে জামায়াতের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন পায়। যেই উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম বিভিন্ন অপশক্তি বাধার প্রাচীর দাঁড় করিয়েছিল। তারপরও অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঈর্ষণীয় বিজয় লাভ করে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।