যশোরে মা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু
৩ জেলায় ৩ লাশ উদ্ধার
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যশোরের বাঘারপাড়ায় মা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে তিন জেলায় উদ্ধার হয়েছে তিন লাশ।
বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ ঘরের একই খাট থেকে থেকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনো কেউ স্পষ্ট হতে পারেননি। শনিবার রাত ৯টার দিকে এমন ঘটনা ঘটে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
খলশী গ্রামের পশুচিকিৎসক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, মৃত গৃহবধূর নাম জুবায়দা খাতুন (৩২) ও তার মৃত ছেলের নাম জিসান (৬)। গৃহবধূর স্বামীর নাম জাকির হোসেন। তিনি এ গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে। শনিবার রাত ৮টার দিকে আক্তার হোসেন খবর পান জাকিরের স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ খাটের ওপর পড়ে আছে। আক্তার ঘরে ঢুকে দেখেন খাটের ওপর ছেলে জিসানের হাত ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা আছে। একই খাটে জিসানের মা জুবায়দার গলায় ওড়না পেঁচানো রয়েছে। তবে ওড়নার দুই প্রান্ত জুবায়দার দুই হাতে ধরা আছে । এরপর আক্তার হোসেন জিসানের বাবা জাকির হোসেনকে খবর দেন। জাকির হোসেন এ সময় বহরামপুর বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।
প্রতিবেশী একজন জানিয়েছেন, এ পরিবারের তেমন কোনো শক্র নেই। হয়তো জুবায়দা তার শিশুপুত্র জিসানকে আগে হত্যা করে পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। জুবায়দার ছোট বোন পিনজিরা জানিয়েছেন, জাকির দীর্ঘদিন বিদেশ ছিলেন। এক বছর আগে তিনি বাড়ি এসেছেন। তার ভাই শিহাবের সাথে জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তার জেরে হয়তো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানিয়েছেন, ঝুলে ছাড়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা সম্ভব না। লাশের সুরতহালে মনে হয় না ঘটনাটি আত্মহত্যা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন ও তার ভাই শিহাবুরকে থানায় আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী সুসং দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ^রী নদীর তীর থেকে শাহীন চৌধুরী (৫৬) নামে এক মাদকাসক্ত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার বাকলজোড়া মসজিদের পাশে সোমেশ^রী নদীর তীর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের বরইউন্দ গ্রামের মৃত লাতিফ চৌধুরীর ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাহীন চৌধুরী নেশাগ্রস্ত ছিলেন। নেশা অবস্থায় প্রায়ই তিনি রাস্তাঘাটে বেভোর হয়ে পড়ে থাকতেন। সকালে নদীর তীরে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মৃতের ভাই কায়সার আহমেদ চৌধুরী তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বেলা ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী কাটাখালী এলাকায় বিলের মধ্যে লাশটি ভাসতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেদিরহাট তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী কলাবাড়ি এলাকা থেকে এক যুবক নদী সাঁতরে এপারে আসার সময় পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ফাঁড়ি, দশমিনা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের সাথে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল যোগ দেয়। দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার বেলা ১টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী কাটাখালী এলাকায় বিলের মধ্যে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া মাগুরা ভিটা গ্রামে ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন (৩০) নামে এক প্রবাসফেরত যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল এলাকার মাগুরা ভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাকির হোসেন একই গ্রামের শিবলু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরে সংসারের দেখভাল করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরে চাতল এলাকার মাগুরা ভিটা বিলে মাছ শিকারে বের হন জাকির হোসেন। বাড়ি থেকে বিলটির দূরত্ব খুব বেশি নয়। কয়েক ঘণ্টা পর এক নিকটাত্মীয় বাড়ির পেছনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে জাকির হোসেনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তার বুকের মধ্যে একটি ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে পুলিশ বা স্থানীয় কোনো সূত্র নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাকির হোসেনের নিকটাত্মীয়দের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।