মাদারীপুরে আড়াই শতাধিক ভ্রাম্যমাণ মৌচাষির ভাগ্য বদল
Printed Edition
মাদারীপুর প্রতিনিধি
যেদিকে চোখ যায়, শুধু সরিষার হলুদ সমুদ্র। বিকেলের নরম আলোয় সেই মাঠে ভিড় করছেন শিশু-কিশোর, প্রকৃতিপ্রেমী আর কৌতূহলী মানুষ। হলুদের ভেতর সারি সারি কাঠের বাক্স। ভনভন শব্দে ব্যস্ত মৌমাছিরা। এই দৃশ্য এখন মাদারীপুরের গ্রামাঞ্চলে পরিচিত ছবি। রবিশস্যের তে ঘিরে ভ্রাম্যমাণ মৌচাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জেলায়। এতে যেমন বাড়ছে ফসলের ফলন, তেমনি স্বল্প পুঁজিতে লাভের মুখ দেখছেন বেকার যুবকেরা।
কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগরে সরিষােেতর পাশে ৩০০ বাক্স বসিয়ে এ বছর মধু সংগ্রহ করছেন খামারি ইব্রাহিম মিয়া। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় আট লাখ টাকার ব্যবসার আশা করছেন। কয়েক বছর আগে দেড়শ বাক্স দিয়ে শুরু করা ইব্রাহিমের খামারে এখন ৪৫০টি বাক্স। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মৌসুমভিত্তিক চাষ করেন তিনি।
ইব্রাহিমের মতো জেলায় আড়াই শতাধিক ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি রয়েছেন। সরিষা, ধনিয়া ও কালিজিরার েেতর পাশে মৌবাক্স বসিয়ে তারা বছরে ছয় থেকে আট মাস মধু সংগ্রহ করেন। খরচ বাদ দিয়ে অনেকে আট থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের আশা করছেন। রাতিন ইসলাম নামে এক মৌচাষি জানান, ছয় মাসের আয় দিয়েই তার সারা বছরের সংসার চলে। তার খামারে চারজন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিবছর খরচ বাদে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয়।
মৌমাছির পরাগায়নের কারণে রবিশস্যের ফলনও বেড়েছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ধনিয়ার ল্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৯৬৭ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে পাঁচ হাজার ৭৮ হেক্টর। কালিজিরার ল্যমাত্রা দুই হাজার ৩৪২ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ হয়েছে দুই হাজার ৪৫১ হেক্টর। আর সরিষার ল্যমাত্রা ১৭ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৫৬০ হেক্টর। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পরাগায়নের সুফলেই এই বাড়তি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। কাজী ইকবাল হোসেন বাবু বলেন, চোখের সামনে মধু সংগ্রহ হতে দেখে নিশ্চিন্তে কিনতে পারছেন। খাঁটি মধু হাতে পাওয়ায় আস্থা বেড়েছে। গত বছরও তিনি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের কাছ থেকে মধু কিনেছিলেন।
কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে মৌচাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে এবং নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানান, মৌচাষে ফসলের তি হয়; এমন ভুল ধারণা দূর হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। চাষিরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বাড়লে বিদেশে মধু রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।